Exam সামনে পড়তে ইচ্ছে করে না

Exam সামনে পড়তে ইচ্ছে করে না : Question নয়, অভিযোগ পড়ার বিরুদ্ধে : যখন কেউ শিরোনামীয় বিষয়ে জানতে চায়, তখন এই পাগল মনে যে আবেগাপ্লুত ভাবনার উদ্ভব হয় তা হচ্ছে-

Exam সামনে পড়তে ইচ্ছে করে না :

সমস‌্যাটা আন্তর্জাতিক নয়রে ভাই, জাতীয় ব‌্যক্তিগত সমস‌্যা।

ভাইরে, এই সমস‌্যাটা মোটেই আন্তর্জাতিক নয়, জাতীয় একান্ত ব‌্যক্তিগত সমস‌্যা। পুরো জাতির বায়বীয় কাঠামো এই বিষয়ে সমাধানের জন‌্য দেয়ালে মাথা কুটে মরছে। ও আমার যখন বিভিন্ন exam সামনে থাকত, বিনা question-এ আমারও একই দশা হত। বই ছুতেই আলসেমি লাগত। বইয়ের পাতা উল্টাতেই ব‌্যাচেলর খাটটা ডাকত- আয় বাবা, আর কত পড়বি। এত education দিয়ে তুই কী এমন মহাভারত শুদ্ধ করবি! অনেক তো হল। একটু ঘুমিয়ে নে। কীসের কী education! বই ছুড়ে ফেলে দড়াম করে বিছানায় উপুড় হয়ে mobile টিপাটিপি। কী শান্তি! এমন অবস্থায় পড়েননি এরকম জনসংখ‌্যা হাতে গোনা।

Exam সামনে: পড়তে ইচ্ছে করে না, বিসিএস প্রস্তুতি,মন বসেনা পড়ার টেবিলে,পড়ালেখা,বাংলাদেশ,পড়া মনে রাখার দোয়া,পড়তে মন চায়না

Exam সামনে পড়তে ইচ্ছে করে না – মানে হচ্ছে, পড়ার অভ‌্যাসটাই তৈরি হয়নি। পড়ার নেশাটাই জমে ওঠেনি। vocabulary মুখস্ত করার মাঝে যে একটা সূদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আছে- মনের মাঝে এই বোধটাই জেগে ওঠেনি। প্রতিদিনের চর্বিত-চর্বন শুধু প্রয়োজনীয় বইগুলো অধ‌্যয়ন বাস্তবতার মাপকাঠিতে পড়ার অভ‌্যাসটাকে গলা টিপে মেরে ফেলেছে। শুরুটা আজকের নয়। সেই ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু, আর পারছি না Guru – বলার আগে অভ‌্যাসের ‘বল হরি, হরি বোল।’ অন্তেষ্টিক্রিয়া শেষ। আসলে ভাল না লাগা থেকে যে অভ‌্যাস তা বেশিদিন টিকে থাকে না। এ ঘটনাটা বেশি ঘটে চাকরির পড়ার ক্ষেত্রে। কারণ, জানা এখানে যতটা প্রয়োজনীয় তার থেকে বেশি প্রয়োজনীয় বেলা বোসের মা কে চাকরির খবরটা দেয়া। তাই একটা গ‌্যাপ থেকেই যায়। অনীহাটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

এর থেকে মুক্তির একটা সহজ উপায় আছে। চাকরির পড়ার পাশাপাশি নির্ভেজাল আনন্দ লাভের জন‌্য গল্প, উপন‌্যাস, নাটক ইত‌্যাদি, মতান্তরে ‘আউট বই’ পড়া। ‘আউট বই’ বলতে সুধীজন আবার ‘চটি বই’ বুঝবেন না। তাহলে কিন্তু সবশেষ! যা বলছিলাম, ‘আউট বই’ পড়াতে হবে কী, আস্তে আস্তে নিজের মনের ভিতরে এত বেশি ভুবনের সৃষ্টি হবে যে, শুধু প্রয়োজনকেন্দ্রিক পড়ার ফলে যে গ‌্যাপগুলো উঁকি মেরে উঠতে চাচ্ছিল সেগুলো ‘ইন্না লিল্লাহ…’ হয়ে যাবে। সেখানে জায়গা করে নেবে পড়ার নেশা। এই নেশা, ভাই, এমন এক আফিম যে আপনার ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা হতাশা, অবহেলা, না-বোধক চিন্তা-চেতনা আপন ইচ্ছায় সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িতে উঠে পড়বে এবং বুড়িগঙ্গায় বিসর্জন হয়ে যাবে।

অমুক লেখকের বই পড়তেই হবে; তমুক লেখকের বই না পড়লে জীবনই বৃথা। ব‌্যাপারটা এমন নয়। মিছিলের সুরে বলা যায়, ‘এক দফা এক দাবী, আপন ইচ্ছার দাম দিবি।’ এই যেমন ধরুন, নিচের ছোট গল্পটা-

বাংলা ব্যঞ্জন বর্ণমালার শুরুটা স্বইচ্ছায় আলোকিত করেছে প্রথম বর্ণ ক। কাকেদের কাতৃভাষায় ক এর ছড়াছড়ি থাকলেও ব্যঞ্জন বর্ণমালার শুরুতে ক-থাকাতে তাদের ন্যুনতম কোন ভূমিকা নাই। তবে স্বনামধন্য লেখিকা তসলিমা নাসরিনের মাথাব্যথা থাকতে পারে। আমার নেই। আমার মাথাব্যথা আছে ব্যঞ্জন বর্ণমালার ২৮তম বর্ণ ল-কে নিয়ে। এ এক আজব বর্ণ। বাংলা ও ইংরেজি ভাষা মিলে ইউনিভার্সিটি থেকে শুরু করে ব্যবহারিক ও কার্যকরী সম্পর্কের মধ্যে ল ঢুকে লাল করে ছেড়ে দিয়েছে।

ছেলে বড় হয়েছে। এইচএসসি পাস করে ঢাকা এসেছে ল পড়বে বলে।বার অ্যাট ল করবে। বাবা সাথে পাঠিয়েছে তার brother-in-law মানে বাপের শালা ছেলের মামাকে। বাবা তার father-in-law এর কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে একটা LED টিভি পেয়েছিল। বাবার ছোট sister-in-law সারাদিন সেই টিভিতে ইউটিউবে লাউয়ের চচ্চড়ি করা দেখে। এই নিয়ে বাবার mother-in-law এর আক্ষেপের শেষ নেই।বাবার daughter-in-law আরো এককাঠি সরেস। এই ইন-ল এর প্যাচে পড়ে আমার মা কিন্তু বাবার wife-in-law হয়নি বাবাও তার husband-in-law হয়নি। তবে যা দিনকাল পড়েছে in the eye of law কী হবে, কিছুই বলা যায় না।

অর্বাচীনের এ লেখাকে ‘ভ‌্যাজর, ভ‌্যাজর’ আপনি বলতেই পারেন। সে স্বাধীনতা আপনার আছে। তবে একটু ভেবে বলুন তো- এই লেখার শব্দচয়ন, উপমা আপনাকে শেষ পর্যন্ত পড়তে বাধ‌্য করেনি কী!

এভাবেই ‘আউট লেখা’, ‘আউট বই’ আপনার পড়ার অভ‌্যাসকে জাগিয়ে তুলবে, দূর করে দেবে ‘সামনে exam পড়তে ইচ্ছে করে না’ এই অভ‌্যাসকে।

 আরও দেখুন

পিতার কাছে খোলা চিঠি

আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুনঃ
Updated: May 13, 2019 — 10:22 am

2 Comments

Add a Comment
  1. অদ্ভুত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *