হাইফেন

হালে একটা পুরোনো নেশা আমাকে নতুন করে মারাত্মকভাবে পেয়ে বসেছে। এমনই নেশা হয়েছে যে, এটা আমি ছাড়তেও চাই না। নেশাটা আমাকে ধরিয়েছে আমার বন্ধু এবং কাকু লিটন। এইজন্যে বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানবজাতির সতর্ক থাকা বাঞ্চনীয়। কোন এক কু(সু)ক্ষণে ওর অফিসে যাই। ও আমাকে নিয়ে যায় বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের ৭ম তলায়। বাতিঘর। বইয়ের সাম্রাজ্য। ছিমছাম, সাজানো-গোছানো। মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা।

এমনিতেই ছিলাম নাচুনে বুড়ি, পকেটে টাকা থাকতো মোটে কুড়ি। দিনগুলো এমন ভারাক্রান্ত ছিল যে, শুধু বইয়ের ঘ্রাণ শুকেই সাধ মেটাতে হত। কিনে পড়ার দুঃসাহস হত না। ছাত্র থাকাকালীন নীলক্ষেত গিয়ে পুরোনো বই কিনতাম। একটু পানি লাগলে পায়েসের মত গলে গলে পড়ত। কারও কাছ থেকে পড়ার কথা বলে বই মারিং দিয়ে দেব- এমন সুযোগও ছিল না। একবার এক আংকেলের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে গিয়ে সু(কু)কর্মটি সম্পাদন করার মানসে র‌্যাকে হাত দিয়েছিলাম। পিছন থেকে ঐশ্বরিক বানীর মত কানে এল, ‘পড়বা পড়, কিন্তু নিয়ে যাওয়ার কুমতলব থাকলে ভুলে যাও।’ অন্ধকারে থমকে যাওয়া রাতের মত মহান চৌর্যইচ্ছা ভ্রুণেই গর্ভপাত হল। তারপর শত তালিমারা ছাতার মত খুবলানো টাইপ বইপড়া হয়েছে। মন ভরেনি।

কিন্তু দিন বদলে গেছে। জীবনের ফ্রেমে সাদাকালো ছবিটা রং বদলে রঙিন হয়ে ওঠার পরিকল্পনায় সফল। বই কিনে নাকি কেউ দেউলিয়া হয় না- কথাটা ঠিক। শুধু বাসা ভাড়া বাকি পড়ে। একটা শার্ট কিনতে গেলে বর্তমানে হিসেব করি- এটার টাকা দিয়ে মোটামুটি ১০/১২টা বই কেনা যাবে। অতএব…। অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর চেয়ারম্যান (একমাত্র আদরের বউ) স্যার যখন দেখে যে আমার হাতে একটা অতিরিক্ত ব্যাগ, আমাকে দেখার আনন্দে বিকশিত দন্তগুলো ঠোঁটের আড়ালে একটু একটু করে হারিয়ে যায়। উদগিরণ হয় কিছু সাংসারিক শব্দের, ‘এই মিনসে পাইছেটা কী? বাসায় বাজার নাই। আর উনি আইছেন একহালি বই নিয়ে দাঁত কেলিয়ে। আমার হাড়-মাংস এক করে দিল। ওর সংসারের নিকুচি করি।’ আমার তখন একটাই উপায় থাকে। বোকা সাজা। কেননা, বোকার বউ থাকতে পারে কিন্তু শত্রু থাকে না। শুধু আগুনে একটু ঘি ঢালার লোভটা সামলাতে পারি না। বলি কী, ‘সংসারের যখন নিকুচি করবেই, সাথে একটু বরফের কুচিও দিও। খেতে ভাল লাগবে।’ এরপরের বাক্যবাণ জনসাধারণ্যে বলা নিষেধ আছে। তার শুধু একটা কথাই বলা যায়,‘দুজনের মাঝে হাইফেনের মত আছে একমাত্র মেয়ে। সাথে যোগ হয়েছে বই। তোমারে বিয়ে করতে কইছিল কে? বউ না হয়ে যদি বই হতাম তাহলে অন্তত আমার দিকে একটু তাকাতে।হু..হু..হু…’

প্রসঙ্গঃ বাংলাদেশ ব্যাংক এডি প্রিলি

ফোকাস রাইটিংঃ যেভাবে লিখি

English dOt Bank বইয়ের প্রাপ্তিস্থান ও মন্তব্য।

লিংক

অথবা,

কুরিয়ারে পেতে ফোন করুন:

০১৭০১ ৬৬ ৫৫ ৫০,  ০১৭০১ ৬৬ ৫৫ ৫৩   

 

[এটা আপনাদের সাথে আমার আড্ডাস্থল। এখানে আমি মন খুলে কথা বলি। পোস্টটি শেয়ার করুন, কমেন্টে শেয়ার করুন আপনার সমস্যা। সমাধান পেয়ে যাবেন। পরবর্তী পোস্ট পেতে ‘সনাতন দা’ কে ক্লিক করে ফলো করে রাখতে পারেন।]

আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুনঃ
Updated: March 14, 2018 — 8:57 am

2 Comments

Add a Comment
  1. অমায়িক

  2. এস এম মতিউর রহমান

    অসাধারণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *