Arts Faculty, DU-র প্রশ্ন ও ডিজিটাল হৈম-অপু

Arts Faculty, DU-র প্রশ্ন ও ডিজিটাল হৈম-অপু সমাচার

Arts Faculty, DU – র ব্যাংক নিয়োগ প্রশ্ন আর ডিজিটাল যুগের gusty wind এর সর্বগ্রাসী স্রোতে রবী ঠাকুরের হৈমন্তী গল্পের নায়ক-নায়িকা নাম বদল করিয়া ফেলিয়াছে।

অপু হইয়াছে অ্যাপু আর হৈমন্তীকে তো ঠাকুর মশাই নিজেই হৈম বানাইয়া কলেজ-পড়ুয়া দুষ্টু-মিষ্টি ছেলে-মেয়েদের কচি মাথা চিবাইয়া খাইয়া ফেলিয়াছেন। অ্যাপু এখন বল্ড-হেডেড মাস্টার ডিগ্রি হোল্ডার আর হৈম তাহার সতেরো বছর বয়সের কোটা পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে মাস্টার ডিগ্রির পিন্ডি চটকাইয়া সাতাশে আসিয়া ঝুলিয়া পড়িয়াছে। শ্বশুরের পায়ে তৈল মর্দন করিয়া মন্ত্রী হইবার বাসনাকে জলাঞ্জলি দিয়া দিয়াছে অ্যাপু। তাই সরল প্রেমের রসায়নে হৈম-অ্যাপু দুজনেই এখন ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দেয়।

এইতো এ মাসের শুরুতে সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার প্রিলির পরীক্ষায় দুজনেই অ্যাটেন্ড করিয়াছে। শিঁকে ছিড়িতে পারিবে কি-না জানি না। তবে legal statement হিসেবে গালি অভিধান থেকে সভ্য সমাজ বর্হিভূত যে গালিগুলো গলাধকরণ করিয়াছে, তাহার তুবড়ি ছোটাইতে পারিবে। ঘটনার গভীরে প্রবেশ করিলে বুঝিতে সুবিধা হইবে।

অ্যাপু সবুর করিতে পারিত, কিন্তু হৈম সবুর করিতে চাহিল না। স্বীয় বয়সের দিকে লক্ষ্য রাখিয়া বুঝিয়া ফেলিল যে, সুন্দরীর সার্টিফিটেকখানা ক্ষয় হইয়া যাচ্ছে, আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোন রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে । অ্যাপুরও কপালের বিস্তৃতি পিছনদিকে ভয়ানক গতিতে বাড়িতেছে বটে, কিন্তু স্বপ্নের আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই তাড়া।

ওরা ছিল পরীক্ষার্থী, সুতরাং প্রশ্ন কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে ওদের মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। ওদের কাজ ওরা করিয়াছে, মাস্টার ডিগ্রি পাস করিয়া গলায় `বেকার` সার্টিফিকেট ঝুলাইয়াছে।

আমাদের দেশে যে মানুষ একবার প্রকৃত বেকার হইয়াছে চাকরি সম্বন্ধে তাহার মনে আর কোনো উদ্‌বেগ থাকে না। যত দ্বিধা ও দুশ্চিন্তা সে দেখি আমাদের নবীন বেকারদের মাঝে । চাকরির পৌনঃপুনিক আহবানে তাহাদের দড়কাঁচা স্বপ্নগুলো পুনঃপুনঃ কাঁচা হইয়া উঠে, আর প্রথম ভাইভার আঁচেই ইহাদের কাঁচা চুল ভাবনায় একরাত্রে পাকিবার উপক্রম হয়। যাহা হউক-

হৈম-অ্যাপুর সিট হোম-ইকনোমিক্স ও ইডেন কলেজে পড়িয়াছিল। হোম-ইকনোমিক্স থেকে পরীক্ষা শেষ করিয়া অ্যাপু নীলক্ষেত গিয়া একটা সুদৃশ্য হারিকেন কিনিয়া লইলো। হৈমর কলেজের সম্মূখে আসিয়া বিরস-বদনে হারিকেন হস্তে অপেক্ষা করিতে লাগিল। মনে confirm বিশ্বাস- বাংলায় মাস্টার্স পাশ করিলেও হৈম ঠিকই বাঁশ লইয়া আসিবে।

অ্যাপুর মনে ছিল, কয় বৎসরের বেকারত্বে যে মেঘ কালো হইয়া জমিয়া উঠিয়াছে, তাহাকে প্রশ্নপত্র হাতে পাইয়া বৈশাখসন্ধ্যার ঝোড়ো বৃষ্টির মত প্রবল বর্ষণে নিঃশেষ করিয়া দিব । কিন্তু তার ভিতরকার বেকার স্বপ্নগুলো অট্টহাস্যে তাকে পরিহাস করিতে বসিয়াছে। না করিয়া করিবে কী। তাহার যে কিডনিও শুকাইয়া গেছে। Arts faculty-র করা বাংলা প্রশ্নই তো ছেলা কলার জন্য অশ্রুশূন্য রোদন।

আমার এ লেখায় সেই পরীক্ষার যেমন হউক একটা নাম চাই। আচ্ছা, তাহার নাম দিলাম বাঁশ। কেননা, বাঁশের বাঁশিতে কান্নাহাসি একেবারে এক হইয়া আছে, আর বাঁশ ভালমত একবার খাইলে সকাল হোক, আর বিকাল হোক স্বপ্নপ্রদীপ নিভিয়া যায়।

বাঁশখানা তার প্রিপারেশনের চেয়ে আধহাত লম্বা ছিল। কষিয়া বাংলা পড়িয়াছে। ইংরাজি পড়িয়াছে। কোনোটাই সরল স্বাভাবিক নহে। বাঁশখানা যখন তার হাতে তখন তার সিনিয়র অফিসার হওয়ার স্বপ্নের মৃত্যু হয়।

বাঁশখানায় ৮০টি গাট ছিল। কিন্তু সেটা আইক্কাওয়ালা গাট, না সংখ্যার গাট কেহ এই টাইপের গিট্টু বিষয়ে সতর্ক হইতে পরামর্শ দেয় নাই।

পরীক্ষার অরুণোদয় হইল ঘণ্টা পড়ার সাথে। গোল্লা পূরণ করিতেছিল। একজন ঢ্যাঙ্গা টাইপের শিক্ষক তার ডেস্কের উপরে বাঁশখানা রাখিয়া বলিলেন, “এইবার বাঁশ খাও – একেবারে চিল-চিৎকার দিয়া।”

দেখার কেউ ছিল না, সুতরাং কেহ প্রশ্নের মান নিয়া, ব্যাংকের উপযুক্ত কি-না, এসব হিসাব কষিয়া পরীক্ষার্থীদের চোখ ভুলাইবার জন্য জালিয়াতির চেষ্টা করে নাই। আবোল-তাবোল কিছু প্রশ্ন, সাদাসিধা কিছু ম্যাথ, এবং সাদাসিধা রিপিটেড কম্পিউটার নলেজ। কিন্তু, সমস্তটি লইয়া কী যে বাংলা বাঁশ সে অ্যপু বলিতে পারে না। যেমন-তেমন লিগ্যাল পেজে, লোকাল বাসের যাত্রীর মত গাদাগাদি করে ৮০টি প্রশ্ন।

যা হউক, খাতা জমা দেওয়ার সময় আসিয়া ঠেকিল। পরীক্ষার প্রত্যেকটি প্রশ্ন যে তার মনে পড়িতেছে। সেদিনকার প্রত্যেক মুহূর্তটি সে তাহার সমস্ত চৈতন্য দিয়া স্পর্শ করিয়াছে। সেই ঘণ্টাখানেকের সময়টি তার জীবনে অক্ষয় হইয়া থাকিবে।

পরীক্ষার হলে পিন-পতন নিস্তব্ধতা; তাহারই মাঝখানে এক পাতার এপিঠ-ওপিঠ প্রশ্নখানি। তার হাতের উপর পড়িল। এমন বাঁশ আর কী আছে। তার মন বারবার করিয়া বলিতে লাগিল, “আমি বাঁশিলাম, আমি ইহার দ্বারা বাঁশ খাইলাম। এ যে আইক্কাওয়ালা, এ যে অনেক ভ্যারাচ্যারা, ইহার ব্যথার কি অন্ত আছে।`

বন্ধুদের অনেককেই গোল্লা পূরণ করিতে দেখিল। প্রশ্ন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অপশন থেকে একবারে উত্তর করিয়া ফেলছে। অ্যাপু কিন্তু পরীক্ষার হলেই বুঝিয়াছিল, এদিক-ওদিক তাকাইয়া, খরগোশের মত কান খাড়া করিয়া উত্তর যেটুকু পাওয়া যায় তাহাতে সময় কাটিয়া যায়, কিন্তু পনেরো-আনা বাকি থাকিয়া যায়। কিন্তু, চাকরিটা যে তার সাধনার ধন ছিল; সেটা তার চাকরি নয়, হৈমকে বিবাহের টিকিট।

অ্যাপুর মনে একটা ভাবনা ছিল যে, বাংলা-জানা আইবুড়ো মেয়ে, কী জানি ইংরাজিতে কেমন করিয়াছে। এমন সময়ে হৈমর ম্যাটারনাল আঙ্কেল ও তার এক বন্ধু আসিয়া জমা হইলেন। অ্যাপুকে দেখিয়া আঙ্কেল ক্রমে অস্ফুট হইতে ফুট হইয়া উঠিলেন। বন্ধু বলিয়া উঠিলেন, “মালটা এইখানে! ও মাই গড! তোমার হারিকেন তো আকারে আমারটাকেও হার মানাইল।”

পাশে দাড়ানো আর-একজন বলিলেন, “আমাদেরই যদি হার না মানাইবে তবে অ্যাপু অ্যাতো তাড়াতাড়ি হল হইতে বাহির হইবে কেন।”

অ্যাপু খুব জোরের সঙ্গে বলিয়া উঠিলো, “ইয়ো আঙ্কেল, সে কি কথা। বাঁশ খাইয়া হল হইতে বাহির হইয়াছি, তাই সিগনাল হিসেবে অমন বড় হারিকেন কিনিয়াছি।”

আঙ্কেল বলিলেন, “ইয়াংম্যান, My eyes are not powerless yet। দোকানদার নিশ্চয়ই your চোখে finger দিয়াছে।”

অ্যাপু বলিল, “ আমি যে properties দেখিলাম।”

কথাটা সত্য। কিন্তু properties – এই প্রমাণ আছে, হারিকেন খুব বেশি বড় নয়।

এই লইয়া ঘোর তর্ক, এমন-কি বিবাদ হইয়া গেল।

এমন সময়ে সেখানে হৈম আসিয়া উপস্থিত। আঙ্কেলের বন্ধু জিজ্ঞাসা করিলেন, “ইয়াং লেডি, তোমার exam কেমন হইয়াছে?”

আঙ্কেল তাহাকে চোখ টিপিয়া ইশারা করিলেন। হৈম তাহার অর্থ বুঝিল না; বলিল, ওহ্‌ আঙ্কেল, not so well.”

আঙ্কেল ব্যস্ত হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “তুমি জান না।”

হৈম কহিল, “Oh no uncle!  আমি জানি, not so well.”

আঙ্কেল হৈমকে এক চিপায় ডাকিয়া বলিলেন, “you naughty girl, পরীক্ষা ভাল হয় নাই, এটা কি খুব একটা গৌরবের কথা, তাই ঢাক পিটিয়া বেড়াইতে হইবে?

হৈম ব্যথিত হইয়া প্রশ্ন করিল, “কেহ যদি জিজ্ঞাসা করে কী বলিব। ”

আঙ্কেল বলিলেন, “মিথ্যা বলিবার দরকার নাই, তুমি বলিয়ো, আমি জানি না; Arts Faculty জানে।”

হৈম কিছু না বলিয়া বাঁশখানা দেখাইলো। সে বাঁশ যে খাইয়াছে তাহার কথা বলিবার শক্তি থাকিবার উপায় নাই।

হৈম ও অ্যাপু যার যার বাড়ি ফিরিল।

মাস্টার ডিগ্রি অ্যাপু অকাতরচিত্তে চুলায় দিতে পারিত। কিন্তু হৈমর কল্যাণে পণ করিল, প্রিপারেশন লইবই এবং ভালো করিয়াই লইব। পরীক্ষা পাসের উদ্যোগে অ্যাপু কোমর বাঁধিয়া লাগিল। একদিন রবিবার মধ্যাহ্নে সনাতন দা‘র আড্ডায় বসিয়া notification পাইলো, হৈম পাল্টি নিয়াছে।

অ্যাপুর নিজের জীবনটা এমনি বাঁশায়িত হইয়াছে যে, সে কোথাও বাঁশ ছাড়া শূন্যতা লক্ষ করিতে পারে নাই। আজ হঠাৎ তার অত্যন্ত নিকটে অতি বৃহৎ একটা নৈরাশ্যের গহ্বর দেখিতে পাইল। কেমন করিয়া কী দিয়া সে তাহা পূরণ করিবে।

এই হল হৈম-অ্যাপু ও Arts Faculty, DU-র ঘটনা।

শুনিতেছি, বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি-র পরীক্ষাও Arts faculty, DU নেয়ার পায়তারা করিতেছে। হয়তো অপু পরীক্ষার ডাক অগ্রাহ্য করিতে পারিবে না, ইহাও সম্ভব হইতে পারে। কারণ – থাক্‌, আর কাজ কী!

আরও যা পড়বেন:

bcs written syllabus সাথে bank: কী পড়ব, কোথা থেকে কতটুকু

পারিভাষিক শব্দ(২৫৬টি): কমন পড়বেই

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ: বিসিএস ও ব্যাংক

এক কথায় প্রকাশ: ৪৭৬টি (এর বাইরে আর কিছু নেই)

প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ ও বাক্যশুদ্ধি: ২৫০টি

সোনালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার-২০১৮ এর সম্পূর্ণ সমাধান

sonali bank senior-officer question : ২৮১টি(বাছাইকৃত)

চর্যাপদ (charyapada): যেভাবে পড়া উচিত

bank job circular: total preparation

লাল নীল দীপাবলি: ফাকি দিতে হলে যা পড়বেন-০১

নতুন চাকরি পেলে কি হয়

Translation: BB Officer(General) Written-2018

Sonali Bank Exam Senior Officer (110 টি English প্রশ্ন)

bangladesh bank career Officer(General):Written

উল্লেখ্য যে, সনাতন দা‘র আড্ডার এরকম আরও এবং কার্যকরী পোস্ট আপডেট পেতে ডেস্কটপ ইউজাররা বুকমার্ক এবং মোবাইল ইউজাররা সনাতন দা‘র আড্ডা অ্যাপসটি ইন্সটল করে notification subscribe করে রাখুন। আড্ডার নতুন পোস্ট আপনাকেই খুজে নিবে। 

আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুনঃ
Updated: January 24, 2019 — 11:38 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *