bank job circular: total preparation

bank job circular ও  অঞ্জন দা

হঠাৎ করেই একটা বিশ্রি পোড়া গন্ধ বোসকাকু মানে বেলাদির পিতৃদেবের নাকে এসে দমাদম করে ঘুষি শুরু করে দিল। বোসকাকু ভাবলেন, কার পাকা ধানে আমি মই দিয়ে এসেছি যে, আমাকেই এই গন্ধের বলির পাঠা হতে হল। পাঠা মানসিকতা নিয়ে তিনি বেলাদির রুমে এক প্রকার চোরের মতই ঢুকলেন। কারণ বেলাদি আর অঞ্জন দা‘র দুর্বল প্রেমের রসায়ন তার অজানা নয়। একজন পরিচ্ছন্ন রাষ্ট্রীয় বেকার bank job circular হাতে অঞ্জন দা‘র কারণেই তো তিনি আইডি ট্রাক করা ল্যান্ডফোন কিনেছেন।

বেলাদির ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন যে, দক্ষিণের খোলা জানালায় বেলাদি এলোচুলে দাড়িয়ে আর অদূরে এক বেঞ্চিতে বিশুদ্ধ ভ্যাগাবন্ডটার ছায়া প্রদীপের টিমটিমে আলোর মত পড়ে আছে। চকিতে তিনি বুঝে নিলেন, বিশ্রি হৃদয়-পোড়া গন্ধটা এই আহত প্রেমের রসায়ন থেকেই আসছে। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে বোসকাকুর। আজ একটা এসপার-ওসপার করেই ছাড়বেন।

অঞ্জন দা‘র সাথে প্রথম সাক্ষাত ও bank job circular এর প্রথম পাঠ

ব্রিটিশ মোচধারী বোসকাকু মহাভারতের হিড়িম্বা রাক্ষসের মত লম্বা লম্বা পা ফেলে যমদূতের ন্যায় অঞ্জন দা‘র চর্মচক্ষুর সামনে হাজির। বেলাদির প্রেমে তো দাদা আগেই হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। এবার বেলাদির পিতৃদেবকে স্বীয় চোখের সামনে দেখে যেটা বাকি ছিল, মানে বিষমটাও খেয়ে নিলেন। ষোলোকলা একেবারে কানায় কানায় পূর্ণ। স্ট্রিং-ছেড়া গিটার হাতে তাল কেটে যাওয়া ভবিষ্যতের চিন্তায় মগ্ন অঞ্জন দাকে থতমত খেতে দেখে বোসকাকুর স্বীয় হৃদয়ের কোমল এক প্রান্তে যেন সূদূর অতীতের এক সমজাতীয় ব্যথা কেঁদে উঠল। রাগ গলে একেবারে ডিস্টিল ওয়াটার হয়ে গেল। অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকা অঞ্জন দা‘র কাঁধে স্নেহের হাতখানি রেখে তার পাশে বসতে বললেন। তারপর বললেন, দেখ বাবা, তোমার আর বেলার কসবার ওই নীল দেয়ালের ঘরের কথা আমার অজানা নয়। তাই কিছু কথা তোমাকে বলি। মন দিয়ে শোন।

কী সেই কথা ও bank job circular

বোসকাকু শুরু করলেন- শোন বাবা, প্রথমেই ধরে নাও যে, বেলা বোস বলে কিছু নেই। যা আছে সেটা তুমি নিজে। যা কিছু করবে, নিজের জন্য কর। যে ছেলে গিটারে এত চমৎকার সুর তুলতে পারে সে একটু কষ্ট স্বীকার করে সামান্য একটা চাকরির প্রিলিতে টিকতে পারবে না- এটা আমি বিশ্বাস করি না। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ঢুঁ মেরে আমি দেখেছি যে, তোমার সামনে bank job circular এর যে পরীক্ষাগুলো আছে তা হচ্ছে-

(এখন  এই  লিস্ট দেখার দরকার নাই।)

ক্রমব্যাংকের নামধরনপদসংখ্যাতারিখটেকাবেপরীক্ষাকর্তা
০১সোনালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসারপ্রিলি৬৮৬০১/০৬/১৮৮০০০±Arts Faculty, DU
০২সোনালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসারলিখিত২৯/০৬/১৮Arts Faculty, DU
০৩সমন্বিত সিনিয়র অফিসারপ্রিলি১৬৬৩১৩/০৭/১৮১৬০০০±Management, DU
০৪বাংলাদেশ ব্যাংক (এডি)প্রিলি২০০২০/০৭/১৮১০০০০±Arts Faculty, DU
০৫সমন্বিত অফিসারপ্রিলি২৫৭৪২৭/০৭/১৮১৮০০০±AUST/ বিজনেস ফ্যাকাল্টি
টোটাল পদসংখ্যা৫১২৩

এইবার তুমি চিন্তা করে দেখ যে, এই ৫১২৩ টির মধ্যে থেকে কমপক্ষে একটি নিয়োগের সরকারি খাম কী তোমার ঠিকানায় যেতে পারে না! অবশ্যই পারে। সময়ের কাছ থেকে তোমার পাওনা যদি তুমি কড়ায়-গল্ডায় বুঝে নিতে না পার এর থেকে বড় লজ্জা সময় নিজেও আর কখনও পাবে না। সবার চাকরি হবে না- একথা ধ্রুবসত্য। কিন্তু তোমার কেন হবে না! সবার ভেতর থেকে স্বমহিমায় তুমি কেন জ্বলে উঠছ না! preparation নেয়ার জন্য এখনও যথেষ্ঠ সময় তোমার হাতে আছে। তোমার ভাস্কো-দা-গামা দাদু আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন, তুমি নিজেকে আবিষ্কার কর।

ইলেক্ট্রিকের যুগ স্ত্রীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী সেবার দায় থেকে(নির্মলেন্দু গুন)। কিন্তু know thyself এর রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পায়নি তেমন কেউ। তবুও যতটুকু সম্ভব তোমার ভেতরের আমি‘র সত্যিকার অবস্থাকে মর্গে রাখা লাশের মত ব্যবচ্ছেদ করে ফেল। নিশুতি রাতের নির্ঘুম অন্ধকারে খোলা আকাশের পটে নিজেকে রেখে প্রশ্ন করে দেখ যে, তুমি সত্যিই কোন preparation নেয়ার উপযুক্ত কি-না। যদি  know thyself এর বিশাল ভুমি থেকে অন্তত এটুকুকে টেনে-হিচড়ে বের করে আনতে পার তাহলেই কেবল অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছার বৈতরনীতে তুমি প্রথম পদক্ষেপ রাখতে পারবে।

আমি মনে হয় পারব- এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অবকাশ বেকারত্বের মিছিল তোমাকে দিবে না। কথাটা সত্যি জেনো যে, competition যত জন পরীক্ষার্থী, তত জনের মাঝে হয় না। গড়ের হিসাব এখানে নদীর গভীরতা গড়ে মেপে ডুবে মরার শামিল।competition হয় পোস্টসংখ্যার দ্বিগুণ সংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে। বেলা বোসকে নিয়ে তুমি শুধু কল্পনায় আছ। স্বপ্নে নেই। স্বপ্নে যদি থাকতে তাহলে এ.পি.জে. আবদুল কালামের স্বপ্নের সঙ্গা তোমাকে নির্দয়ভাবে ঘুমাতে দিত না। বেলার জানালার অদূরে এই বেঞ্চিতে তোমাকে পাওয়া যেত না। দীর্ঘশ্বাসের দেয়াল ভেঙ্গে preparation এর সপ্তম সুর তোমাকে বিজয়ীদের কাতারে নিয়ে আসতো। তাহলে কাকাবাবু এখন আমি কীভাবে preparation নিব?

বলছি এক এক করে।

১. নিজের ভেতরের শক্তি সম্পর্কে ধারণা

তুমি তো জান যে একজন মানুষ তাঁর স্বীয় দর্শনকে সামনে রেখে এগিয়ে যায়। তোমার প্রকৃত দর্শন কী?- ভ্যাগাবন্ডিয় নাকি নাক্ষত্রিক?  মানে হচ্ছে তুমি ভাগ্যাবন্ডের মত ফ্যা ফ্যা করে ঘুরতে চায় , নাকি আকাশের ওই নক্ষত্রের মত উজ্জ্বল হয়ে জ্বলতে চাও। যদি নিজের ভিতরে ৫টা মাত্র না কে তুমি নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতে পার কেবল তাহলেই তোমার ঘুমন্ত শক্তি মহীরুহের ন্যায়, আগ্নেয়গিরির লাভার ন্যায় বেরিয়ে আসবে। তোমাকে নিয়ে ছুটে যাবে ভবিষ্যতের আলোকিত গতিপথে। প্রিপারেশন হবে হাইব্রিড। তা হচ্ছে-

ক. আমাকে দিয়ে হবে না;

খ. ভুতের মত পড়াশোনা করলে লোকে কী ভাববে বুঝতে পারছি না;

গ. এখন আর পড়তে ইচ্ছে করছে না;

ঘ. যা পড়ি সেটা লিখতে ইচ্ছে করে না;

ঙ. আমার থেকে ভাল আর কেউ পারে না

এটুকু হলেই তুমি দেখবে যে, তোমার ভিতরে একটু একটু করে ভবিষ্যত জন্ম নিচ্ছে। নেপোলিয়ানের ডিকশনারিতে নাকি `impossible` বলে কোন শব্দ ছিল না। আসলে স্বভাব যায় না ম‘লে। সুযোগ পেয়েই অঞ্জন দা বলে বসল, কম দামী ডিকশনারি কিনলে এমনই হয় কাকাবাবু। কত শব্দই থাকে না। কাকাবাবু বললেন, ফিচলেমি বাদ দিয়ে কাজের কথা শোন। সরি, কাকাবাবু। আপনি বলুন, আমি শুনছি।

২. প্রিপারেশনের জন্য কত সময় আছে

ধরে নাও তোমার হাতে মাত্র একমাস সময় আছে। এই একটামাত্র মাসকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পার, সময়ের দৌরাত্ম্যকে নিজের পক্ষে কাজ করাতে পার- তাহলে চাকরি তোমার পায়ে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়বে।আরে ভাই কেউ না কেউ তো ঠিকই চাকরি পাচ্ছে, বৃটিশ গোলাম হচ্ছে। তাহলে তোমার হতে সমস্যা কোথায়? সমস্যা তোমার মনে। তুমিই তোমার রাশ টেনে ধরেছ, নিজেকে রেশমপোকার মত কোকুনে আবৃত করে হাপিত্যেশ করে মরছ। জান তো, পরিস্থিতির গনেশ উল্টাতে সময় লাগে মাত্র এক মুহুর্ত।

৩. রুটিন তৈরি করে পড়া

bank job circular অনুযায়ী প্রিপারেশন নেয়ার সব থেকে ভাল উপায় হচ্ছে একটা সম্পূর্ণ রুটিন তৈরি করা। যেহেতু চাকরির নিশ্চয়তা এক অনিশ্চয়তার ফাঁদ, তাই নিজেকে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত করে নিতে হবে। বিসিএস এর মত ধৈর্যশীল পড়াশোনার সাথে একটু হায়ার লেভেলের ম্যাথের খিচুড়ি রাখলেই ব্যাংক ও বিসিএস- দুটোরই টোটাল প্রিপারেশনের মায়রে বাপ হয়ে যায়।

তোমাদের জন্যই সনাতন দা নামে একজন একটা বিসিএস ও ব্যাংক প্রিপারেশনকেন্দ্রিক আড্ডার আয়োজন করেছে। যেখানে তুমি প্রয়োজনীয় সবকিছু বিশেষ করে কোথা থেকে, কি, কতটুকু, কিভাবে পড়তে হবে তার জন্য একটা কম্বাইন্ড সিলেবাস তৈরি করছে। সেটা ফলো করতে পার।

প্রথমে বিগত ৩বছরের ব্যাংক ও বিসিএস এর প্রিলি ও রিটেনের প্রশ্ন দেখে বাজারের লিস্টের মত একটা টপিক লিস্ট তৈরি কর। লিস্টটা বড় হবে। হোক। এগুলোর মধ্যে অনেক টপিকই তোমার জানা থাকবে। যেগুলো জানা থাকবে না তাদের মধ্যে থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু টপিক সিলেক্ট করে ফেল। এগুলোকে ২০দিনে শেষ করতে হলে প্রতিদিন কয়টা টপিক পড়া লাগে হিসেব করে নাও।কখন পড়বে এবং কখন ম্যাথ করবে- সেটা একান্তই নিজের ব্যাপার। তবে একটা বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যে, কোনভাবেই, কোন কারনেই প্রতিদিনের টার্গেট ফিল-আপ না করে ওঠা যাবে না। ইচ্ছে করবে না; আলসেমি লাগবে। স্বাভাবিক। এখানেই প্রয়োজন পড়বে স্বপ্ন দেখার।

প্রতি দুইদিন অন্তর রিভিশন অপারেশন চালাতে হবে। পড়েন কম- ক্ষতি নেই। কিন্তু যেটুকু পড়ব, একেবারে এয়ার-টাইট। বোমা কেন, ক্ষেপনাস্ত্র মারলেও ভুল হবে না। প্রিলির জন্য একটা প্রশ্ন একটা উত্তর পড়া এবং মনে রাখাই যুক্তিসঙ্গত। তুমি যদি অপশন দেখে পড়, ধরাটা খাবে সময়মত।

৪. প্রতিদিনের আমির সাথে তুলনা

প্রতিদিন তুমি কী পড়লে তার একটা হিসাব রাখ। আজকের আমি‘র সাথে গতকালের আমি তুলনা করে দেখ যে, এগিয়েছ নাকি কলাগাছে ওঠার মত পিছিয়েছ। এটা একটা প্রতিযোগিতা ধরে নাও। নিজের সাথে নিজের। তুমি তোমাকে ছাড়িয়ে যাও preparation এর পথে, প্লাটিনামের চাকরি rosy wings এ ভর করে এগিয়ে আসবে তোমার দিকে। এটা এক বিশ্বজাগতিক খেলা। তাই পড়াশোনা কর আনন্দের সাথে, হাসিমুখে। টার্গেটকে সামনে রেখে। অর্জুনের মত তপস্যা কর। তপস্যায় সব না হলেও কিছু কিছু হয়।

৫. কারা প্রশ্ন করবে জানা থাকলে তাদের বিগত প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নেয়া

যদি জেনে গিয়ে থাক যে, কারা প্রশ্ন করবে তাহলে তাদের বিগত বছরগুলোতে করা প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সেইমাফিক নিজের উপর স্টিমরোলার চালাও। Centrifugal technique। একটা প্রশ্নকে সামনে ধরে এর থেকে আর কি কি টাইপের প্রশ্ন হতে পারে- এভাবে পড়া।

কাকাবাবু আমি বুঝে গেছি। আমি আমার জন্যই প্রিপারেশন নিব। এই ৫১২৩টি খাম থেকে কমপক্ষে একটা খাম আমার চাই-ই চাই- বলে অঞ্জন দা চলে গেলেন।

বোসকাকু এক পরিতৃপ্ত মন নিয়ে ভবিষ্যতের এক ব্যাংকারের অপস্রিয়মান ছায়ার দিকে মুগ্ধ বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইলেন।

বি. দ্র. এটা শুধু নিছক গল্প নয়, আপনার প্রিপারেশনের প্রথম ধাপ।

bank job circular: total preparation ছাড়াওআরও যা পড়বেন:

চর্যাপদ(charyapada): যেভাবে পড়া উচিত

লাল নীল দীপাবলি: ফাকি দিতে হলে যা পড়বেন-০১

নতুন চাকরি পেলে কি হয়

Translation: BB Officer(General) Written-2018

Sonali Bank Exam Senior Officer (110 টি English প্রশ্ন)

bangladesh bank career Officer(General):Written

আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুনঃ
Updated: April 24, 2020 — 2:03 am

1 Comment

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *