Focus Writing or Creative Writing: যেভাবে লিখি

Creative Writing or Focus Writing Techniques

ব্যাংকের রিটেন পরীক্ষার ক্ষেত্রে focus Writing or Creative Writing এক দ্বিধার নাম। কীভাবে লিখব ও কতটুকু লিখব- এই গ্যাড়াকলে পড়ে অনেককেই হাপিত্যেশ করতে দেখেছি। সবগুলো ম্যাথ কারেক্ট করেছে কিন্তু ভাইভার ডাক পায়নি এরকম যেমন আছে, সেরকম আছে মাত্র ১/২টা ম্যাথ কারেক্ট করে ভাইভার ডাক পেয়েছে।

এই ডাক পাওয়ার মানে হচ্ছে ম্যাথ বাদে বাকি অংশে সে ‘খেল’ দেখিয়ে দিয়েছে। এই বিষয়ক ইনবক্সে যে মেসেজগুলো পাই তার একটা হচ্ছে-

ভাইয়া, focus writing এর জন্য বাজারে কোন বই আছে কি?

উত্তর হচ্ছে- না ভাই, নাই। তাহলে? তাহলে যা করা যায় তা হচ্ছে, আপনার এতকাল ধরে চলতে থাকা তথ্য-উপাত্ত, জ্ঞান-গরিমা, analytical ability, প্রেজেন্টেশন সবকিছুকে কাজে লাগিয়ে একটা ‘মোয়া’ বানিয়ে নাক উঁচু স্যারের সামনে ‘ধপ’ করে ফেলে দিতে হবে। স্যার পড়বে আর মার্কস দিবে; মার্কস দিবে আর পড়বে।

এই ‘মোয়া’ বানানোর জন্য আপনাকে সৈয়দ মুজতবা আলী বা হুমায়ুন আহমেদ হতে হবে না, হতে হবে না তথ্য-উপাত্তের সাবমেরিন। শুধু মগজে থাকা তথ্য-উপাত্তের ডিঙি নৌকাটাকে অ্যানালিটিক্যালি বাইতে পারলেই চলবে।

প্রথমেই আসি- focus Writing or Creative Writing কী এবং প্রশ্ন প্যাটার্নে।

ফোকাস মানে ফোকাস। মানে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর তথ্য-উপাত্ত সহযোগে পাঠকের, I mean, স্যারের দৃষ্টিকে আবদ্ধ করে রাখা। অন্যদিকে ক্রিয়েটিভ রাইটিং হচ্ছে কোন বিষয়ের ভাল-মন্দ উভয়দিক আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত দেয়া। তবে উত্তর লেখার প্যাটার্ন বা স্টাইল একই। আপনার কাছে জানতে চাওয়া হল যে, ‘ঢাকা শহরে ট্রাফিক জ্যামের উপকারিতা অনেক- এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?’
লক্ষ্য করুন আপনার সামনে দু’টি পথ খুলে দেয়া হয়েছে। উপকারিতা এবং অপকারিতা। আপনি শ্যাম রাখি, না কুল রাখি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে সাতকাণ্ড রামায়ণ লিখে দিয়ে আসলেন, হবে না। আপনাকে একটি বেছে নিতে হবে। আপনি কোনটা বেছে নিলেন তা আপনাকে প্রথমেই বলে দিতে হবে। এরপর উপযুক্ত তথ্য, প্রমাণ, ব্যাখ্যা, উদাহরণসহ আপনাকে আপনার চয়েসের স্বপক্ষে কে ডি পাঠক(আদালত, হিন্দি/বাংলা সিরিয়াল) এর মত উকিল দাড় করাতে হবে। সবশেষে, আপনার অভিমতকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

তাহলে কীভাবে শুরু করব

গতানুগতিকের বাইরে এসে ‘প্রথম দেখায় প্রেম’ এর মত করে স্যারকে ভাললাগার গর্তে ফেলে দিতে হবে। এমনভাবে ফেলে দিতে হবে যেন ভাল মার্কস না দিয়ে স্যার আর উঠতে না পারেন। আপনার বোঝার সুবিধার্থে পয়েন্ট আকারে ব্যাখা করছি।

Introduction: আপনি গল্পের ছলে শুরু করতে পারেন, পারেন কোন উক্তি দিয়ে অথবা সম্পূর্ণ বিপরীত কোন স্টেটমেন্ট দিয়ে। যেমন ধরুন- ‘ঢাকা শহরে ট্রাফিক জ্যামের উপকারিতা অনেক- এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?’এই প্রশ্নে আপনার অভিমত হচ্ছে, উপকারিতা। তাহলে আপনি শুরু করতে পারেন এভাবে-

ট্রাফিক জ্যামের হাজার অপকারিতা থাকলেও এর উপকারিতা কিছু কম নয়।
অপকারিতা চয়েস করলে, সেক্ষেত্রে –
ট্রাফিক জ্যাম ঢাকা শহরের একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা- এই টাইপের আলুভাতে মার্কা Introduction দিয়ে ফোকাস রাইটিংয়ের  সৌন্দর্যকে নষ্ট করবেন না। বরং শুরু করতে পারেন এভাবে,
ব্যস্ত সমস্ত হয়ে রাস্তায় এসে দেখি সব গাড়ি পটে আঁকা ছবির মত দাঁড়িয়ে আছে অপকারী মনোভাব নিয়ে। ট্রাফিক জ্যাম। ঢাকা শহরের নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য।

Body: এই অংশে আপনার অভিমতকে/ভাল-মন্দকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য Supporting Details, Examples, Chart, Tables ব্যবহার করুন। কমপক্ষে একটি টেবিল দিন। বেশি না লিখে টেবিলের ডাটাকে Analysis করে দিন। যদি টপিকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন টেবিল তৈরি করা না যায়, তাহলে একটা জেনারেল টেবিল তৈরি করে দিন।

এই টেবিলে ডাটা হিসেবে আপনার রাইটিংয়ের Key Pointগুলো উল্লেখ করে দিন। পয়েন্ট আকারে না লিখে প্যারা আকারে লিখুন। সেই প্যারার চুম্বক অংশটুকুই দুই-একটা শব্দে Key Point। টেবিলটাকে বসিয়ে দিন খাতার ডানপাশে একটা বক্সে। বাম পাশ দিয়ে ঝড়ের বেগে আপনার কালো কালির কলমের লাঙ্গল চালিয়ে যান। মনে করুন, আপনার মগজে বিশটা পয়েন্ট পায়চারি করছে। আপনি বিশটা আলোচনা করার সুযোগ পাবেন না। ৫/৭টি আলোচনা করে বাকিগুলোকে টেবিলে পিন-আপ করে দিন। প্যারাগুলোতে আর আলাদা করে শিরোনাম দেয়ার প্রয়োজন নাই। কেননা, সেটা আগেই টেবিলে চলে গেছে। এটা একটা সিচুয়েশনাল টেকনিক। আপনি যে ‘চালু মাল’ এবং আপনার মেধাকে ‘সেল’ করার যথেষ্ট মেধা আপনার আছে- সেটা বোঝানোর জন্য।

Conclusion: আপনি Body অংশে একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছেন। To the Point এ বিশ্লেষণ করেছেন কিন্তু Conclusion দেননি। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটাকে মার্ক করেননি। আপনি আসলে অর্ধেক লিখেছেন। বোতলে আপনি তরল পদার্থ ভরেছেন বর্ষায় নদীর ভরা যৌবনের মত কিন্তু মুখটা না আটকিয়ে উপুড় করে ধরেছেন। মার্কস পড়ে যাবে ভাই। আপনাকে অবশ্যই Conclusion দিয়ে টাইট ফিটিং করে দিতে হবে। আসলে কর্তৃপক্ষ চায় ভবিষ্যতের ব্যাংকাররা কতটা অ্যানালিটিক্যাল, কতটা Decisive এবং কতটা লজিক্যাল ডিসিশান নিতে পারে। যদি Conclusion এ নতুন কিছু লিখতে না পারেন তাহলে Introduction এর Themeটাকে ঝেড়ে দিয়ে আসুন।

আপনার focus Writing or Creative Writing  এর স্ট্রাকচার শেষ। তবে কিছু বিষয় অবশ্যই মনে পেরেক মেরে রাখবেন। যেমন-
১।  আপনি সময় পাবেন কম, জায়গা পাবেন কম। কিন্তু মার্কস থাকবে বেশি। তাই প্রশ্ন পড়ার সাথে সাথেই ২০সেকেন্ডের মধ্যে আপনি কী লিখবেন, কতটা লিখবেন, শুরু করবেন কীভাবে- সব Brainstorm করে ফেলতে হবে;
২। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্ভুল বানানে লেখাটা অত্যন্ত জরুরী;
৩। নাইন-টেন লেভেলের Sentence প্যাটার্ন বাদ দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড প্যাটার্নে লিখুন;
৪। Signal word, connecting conjunction, Linkers ব্যবহার করে Body কে Compact করে দিতে হবে;
৫। বারবার একই শব্দ ব্যবহার করার প্রয়োজন হলে উপযুক্ত Synonym ব্যবহার করতে হবে;
৬। হোক বাংলা অথবা হোক ইংরেজিই – স্ট্রাকচার মাগার একই।
এই হল সবেধন নীলমনি  focus Writing or Creative Writing সম্পর্কে আলোচনা। আপনাদের কাজে লাগলে নিজেকে ধন্য মনে করব। এই রকম তৃতীয় শ্রেণির লেখা পেতে আমাকে ফলো করে রাখতে পারেন। তাহলে আর আমার কষ্ট করে কারও ইনবক্সে লিংক দিতে হবে না।

 

focus writing কিভাবে লিখব, focus writing এ কি কি থাকবে, focus writing
আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুনঃ
Updated: October 21, 2019 — 11:52 pm

2 Comments

Add a Comment
  1. দাদা এখানে কি পয়েন্ট দিয়ে লিখবো?

  2. Dada, you should have given a sample that depicts this writing. Another thing that really bother me is what do you actually mean by general table with key points. Could you provide us with a vivid pdf sample with the theory applied.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *