জীবন ও স্বাস্থ্য-সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য: Focus Writing

জীবন ও স্বাস্থ্য-সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য 30.06.2018 তারিখে অনুষ্ঠিত sonali bank senior officer written question 2018 এর একটি বাংলা ফোকাস রাইটিং হিসেবে এসেছে ।

সনাতন দা‘র আড্ডার জীবন ও স্বাস্থ্য-সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য এর মত আরও এবং কার্যকরী পোস্ট আপডেট পেতে notification subscribe করে রাখুন।

আড্ডার নতুন পোস্ট আপনাকেই খুজে নিবে। নিচের ফেসবুক বাটনে ক্লিক করে জীবন ও স্বাস্থ্য-সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করে রাখুন। নিজের প্রয়োজনেই বেশি বেশি শেয়ার করে আমাকে উৎসাহ দিন, আড্ডাকে প্রানবন্ত করুন- সর্বোচ্চ ভালটা পাবেন। 

জীবন ও স্বাস্থ্য-সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য

আধুনিক রাষ্ট্রে নাগরিকের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের একটি হল খাদ্যের অধিকার। নিরাপদ খাদ্যের(Food Security) নিশ্চয়তা এর মধ্যেই পড়ে। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য জরুরি হলেও তার চেয়ে বেশি জরুরি নিরাপদ খাদ্য। কেননা, খাদ্য ও স্বাস্থ্য একটি আরেকটির পরিপূরক। টেকসই জীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। অনিরাপদ খাদ্য শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকিরই কারণ না, বরং দেহে রোগের বাসা বাঁধারও অন্যতম কারণ। ডায়রিয়া থেকে শুরু করে ক্যান্সার— এমন দুই শতাধিক রোগের জন্য দায়ী অনিরাপদ খাদ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতিবছর প্রায় ৬০ কোটি মানুষ দূষিত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়। এ কারণে প্রতিবছর মারা যায় চার লাখ ৪২ হাজার মানুষ। এছাড়া, ৫ বছরের চেয়ে কম বয়সী শিশুদের ৪৩ শতাংশই খাবারজনিত রোগে আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে প্রতিবছর প্রাণ হারায় ১ লাখ ২৫ হাজার শিশু।

খাদ্য ফসল কাটা থেকে খাদ্য গ্রহণ করার যে কোন স্তরে রাসায়নিক দ্রব্যাদি এবং জীবাণু দ্বারা বিষাক্ত বা দূষিত হতে পারে। যেমন- কৃষিতে ঢালাওভাবে রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার হচ্ছে। কৃষক বাজারজাত করার সময় খাদ্য দূষিত করছে, ক্রেতা ভালো পণ্যের সঙ্গে ভেজাল পণ্যের মিশ্রণ ঘটিয়ে খাদ্যের দূষণ ঘটাচ্ছে। আবার, উৎপাদনের পরিবেশ খাদ্যের মানকে প্রভাবিত করে। বাজারের তাজা মাছ কোন পরিবেশে বড় হয়েছে, সেটি কিন্তু মাছের গুণগত মান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। মাছকে যে খাবার দেওয়া হয়, তা থেকেও মানুষের শরীরে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। সাধারণত নিরাপদ খাদ্যের ঝূঁকি দুই ধরনের:

ক.   জীবাণু সংক্রান্ত দূষণ (যথা বিভিন্ন ধরনের জীবাণু, ছত্রাক ইত্যাদি)। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ কারণে দূষিত খাদ্য মানবদেহে বিভিন্ন বিরূপ উৎসর্গের সৃষ্টি করে।

খ.    রাসায়নিক দ্রব্যাদি দ্বারা দূষণ। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত দ্রব্যাদি, পশুর ঔষধের অবশিষ্টাংশ, ভারি ধাতু অথবা অন্যান্য অবশিষ্টাংশ যা কারো অগোচরে খাদ্যে অনুপ্রবেশ করে।

তবে খাদ্য নিরাপত্তার(Food Security) ক্ষেত্রে ভয়াবহ দিক হলো খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের ১৫টি বাজার থেকে সংগৃহীত মুরগির নমুনা পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক রেসিডিউ পাওয়া গেছে। এছাড়া, খাদ্যে ফরমালিন, ভেজাল, রঙ মিশ্রণ তো আছেই। আরও আছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে এসব বিষয় কিছুটা কমিয়ে আনা গেলেও তা একেবারে বন্ধ করা যায়নি।

নিরাপদ খাদ্য বাস্তবায়নে দু’টি জায়গায় কাজ করা জরুরি। তাহলেই খাদ্যকে নিরাপদ করা সম্ভব।

  1. ‘সরাসরি উৎপাদন করা কাঁচা সবজি বা মাছ কোথায় উৎপাদিত হচ্ছে;
  2. উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেচের পানি কিংবা চাষের জমির মাটিটা নিরাপদ কিনা।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে না পারলে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করার কথা চিন্তাও করা যায় না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য(Food Security) নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন তৈরি করে সরকার। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর এই আইনের আওতায় ২ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ২৫ লাখ ক্ষুদ্র বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ী ও ১৮টি মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া দেশে প্রায় ৪৮৬টি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের অধীন প্রায় ১২০টি আইন ও নীতিমালা রয়েছে। ৬৪টি জেলায় ও আটটি বিভাগীয় শহরে ৭৪টি নিরাপদ খাদ্য আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন মেনে চলার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী নানা সংগঠনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বিধিমালাগুলো প্রণয়নের কাজ অব্যাহত রেখেছে।

কোনো খাদ্য বাজারে বিক্রয়ের জন্য ক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা জরুরি। এ জন্য পণ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য ক্রেতার সামনে উপস্থাপন করতে হবে। রাস্তার অনিরাপদ খাদ্যের চেয়ে বিশেষ সংস্থার মাধ্যমে ঘোষিত নিরাপদ খাদ্যের ওপর ভোক্তা বেশি আস্থাশীল এবং সে খাবার গ্রহণ করতেই বেশি আগ্রহী হয়। এ ক্ষেত্রে খাবারের প্যাকেটে এর গুণগত মান, মেয়াদ, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি তথ্য দিতে হবে; যা জানা একজন ভোক্তার অধিকার।

নিরাপদ খাদ্য (Food Security) নিশ্চিত করার জন্য পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন—প্রতিটি পর্যায়েই সচেতনতা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে নিরাপদ খাদ্য (Food Security) নিশ্চিতকরণে নাগরিক সমাজের ঢাকা ঘোষণা নিম্নরূপ:

১. সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য (Food Security) নিশ্চিত করতে হলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে হবে।

২. নিরাপদ খাদ্য (Food Security) ভ্যালুচেইন শক্তি শালী ও ফলপ্রসু করতে হলে নিরাপদ খাদ্যে অর্থায়ন বৃদ্ধি করতে হবে।

৩. নিরাপদ খাদ্যে (Food Security) অর্থায়নের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন পূর্বক বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

৪. ‘যুবরাই আমাদের ভবিষ্যত’। সে কারণে নিরাপদ খাদ্য প্রসারের অভিযানে যুবদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৫. নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজ গঠনে সহায়তা প্রদান করতে হবে।

৬.যথাযথ প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য প্রসারে সামাজিক উদ্যোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব অবসানের পাশাপাশি সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি সহজতর করতে হবে।

৭. নিরাপদ খাদ্য (Food Security) গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

৮. প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই নিরাপদ খাদ্য (Food Security) বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।

৯. ‘খাদ্যমান মনিটরিং’ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি এক্ষেত্রে ‘সামাজিক প্রত্যয়ন’ বা ‘পিজিএস’ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে হবে।

১০. নিরাপদ খাদ্যে অর্থায়ন বৃদ্ধির জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহকে এগিয়ে আসতে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

১১. খাদ্য অধিকার ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে ‘গণমুখী নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা’ গড়ে তুলতে হবে।

১২. পর্যটন শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে প্রচারণা জোরদার করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

১৩. নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ যথাযথ ভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সামাজিক উদ্যোগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।

১৪. আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে তবে আইন প্রয়োগের নামে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে নিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

১৫. ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘নিরাপদ খাদ্য সহায়ক (সেফ ফুড ফ্যাসিলিটেটর)’ বা অনুরূপ সম্মাননা প্রদানের বিধান করতে হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য নেটওয়ার্ক (বিএফএসএন) দেশের নাগরিক সমাজের প্লাটফরম হিসেবে কাজ করছে। এই নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালীও আরও বিস্তৃত করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে আহ্বান জানানো হয়।

সবশেষে, দেশে প্রায় ২৫ লাখ খাদ্য ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও ১০ লাখ পরোক্ষভাবে জড়িত। ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক। তাদের মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র দোকানদার ও ফেরিওয়ালা। খাদ্য ব্যবস্থাপনায় জড়িত রয়েছে প্রচুর প্রতিষ্ঠান। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উৎপাদক, বিপণনকারী, ভোক্তা—সবাইকেই সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। রাষ্ট্রকে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।  যেহেতু আমাদের বেঁচে থাকার প্রধান নিয়ামক হচ্ছে খাদ্য, সেহেতু এই খাদ্যকে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যানুকূল রাখার দায়িত্ব আপনার আমার সকলের।

জীবন ও স্বাস্থ্য-সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য ছাড়াও অন্যান্য ফোকাস রাইটিং:

Social Safety Net Program: focus writing

Green Banking by Banks: Focus Writing

Financial Inclusion in Bangladesh: Focus Writing

Bangabandhu Satellite: Benefits

বিনা অনুমতিতে সনাতন দা’র আড্ডার কোন পোস্ট কপি করে নিজের বলে চালানো ছোটলোকি ছাড়া আর কিছু নয়।

আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুনঃ
Updated: May 14, 2019 — 2:59 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *