Green Banking by Banks: Focus Writing

Green Banking এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে। কেননা, প্রাকৃতিক পরিবেশকে উপেক্ষা করে পৃথিবীতে কিছুই করা যায় না। জলবায়ু ও পরিবেশ যদি বিপন্ন হয় তাহলে অর্থনীতিও বিপন্ন হয়। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামগ্রিক সমৃদ্ধির জন্য পরিবেশগত ভারসাম্য ও অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অর্থনীতিতে Green Banking ধারণার প্রচলন হয়েছে।

এ আলোকে Profit Maximization এর পাশাপাশি সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ, পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ব উষ্ণায়ন, কার্বন নি:সরণ, পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদির ব্যাপকতা রোধ করে বিশ্বকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিবেশগত বিপর্যয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষনে বদ্ধ-পরিকর, তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার ও দক্ষতার সাথে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার পথ অনুসরণকারী ব্যাংকিং কার্যক্রমই হচ্ছে Green Banking।

অর্থাৎ Green Banking হল পরিবেশ সহায়ক একটি উপায় – একটি ইকো বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং পদ্ধতি । এটি এক ধরনের নীতিগত ব্যাংকিং, যা সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ এবং টেকসই ।

উল্লেখ্য যে, সনাতন দা‘র আড্ডার Green Banking এর মত আরও এবং কার্যকরী পোস্ট আপডেট পেতে notification subscribe করে রাখুন। আড্ডার নতুন পোস্ট আপনাকেই খুজে নিবে। নিচের ফেসবুক বাটনে ক্লিক করে Green Banking : Focus Writing আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করে রাখুন।

Green Banking এর মূল আদর্শ :

  • মূলত Green Banking যথাসম্ভব কাগজের অপচয় এড়াতে সাহায্য করে এবং অনলাইন বা ইলেক্ট্রনিক লেনদেন উপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করে। যত কম কাগজের ব্যবহার হবে ততো কম গাছ নিধন হবে ।
  • একটি পরিবেশ বান্ধব ব্যবসা যা আমাদেরকে পরিবেশগত ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
  • ব্যাংকসমূহের কাজ হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব কাজের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা ও তাদেরকে সম্পৃক্ত করে বিশ্বকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বসবাস উপযোগী করে তোলা ।
  • বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙন অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য কম সুদে ঋণ ব্যবস্থা করা।
  • ব্যাংকের পরিবহন কাজে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেনচালিত গাড়ির বদলে প্রাকৃতিক গ্যাস চালিত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি করা ।
  • Green Banking এর মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমনসামগ্রী বর্জন করে পরিবেশ বান্ধব নতুন নতুন গ্রীন সামগ্রী ব্যবহার করে পরিবেশগত সমস্যা দূর করা ।
  • পরিবেশের বিরোধী শিল্প ও ব্যবসায়ে ঋণের হার কমানো এবং ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ পরিবেশ বান্ধব শিল্প ও ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করা।
  • পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোসহ অন্যান্য পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়ন করা ।
  • বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানির ব্যবহার কমানো ।
  • সৌরশক্তি, বায়োগ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি করা ।
  • শিল্প কল-কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন হ্রাস করা ।

এই আদর্শকে সামনে রেখে ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তারিখের বিআরপিডি সার্কুলার নং ০২-এর মাধ্যমে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে।

উক্ত নীতিমালার আলোকে Green Banking কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে –

  1. নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন
  2. এ খাতে আলাদা বাজেট বরাদ্দ এবং তার সদ্ব্যবহার
  3. ইউনিট গঠন
  4. পরিবেশ ঝুঁকি রেটিং
  5. গ্রীন ফাইনান্সিং
  6. জলবায়ু ঝুঁকি মােকাবেলায় ফান্ড গঠন এবং এর ব্যবহার
  7. গ্রীন মার্কেটিং
  8. সক্ষমতা সৃষ্টি
  9. অনলাইন ব্যাংকিং এর বিকাশ
  10. অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা
  11. বিভিন্ন সেক্টরের জন্য পরিবেশ নীতিমালা প্রণয়ন
  12. গ্রীন স্ট্রাটেজিক পরিকল্পনা গ্রহণ
  13. পরিবেশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রভৃতি।

ব্যাংকসমূহ পরিবেশ বান্ধব বিভিন্ন ধরনের পন্য উদ্ভাবনে আর্থিক সহায়তা, পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহায়তা, অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা, ছাদের উপরে সোলার প্যানেল গঠনে সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তির হাইব্রীড হফম্যান ক্লীন/ট্যানেল ক্লীন সম্বলিত ইট ভাটা তৈরিতে সহায়তা, এলপিজি বোতলিকরণ প্লান্ট, ওয়েল রিফাইনারী প্লান্ট, বায়ো-ফার্টিলাইজার প্লান্ট, প্রবাহমান ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সমৃদ্ধ প্রকল্প ইত্যাদি তৈরি করা বা তৈরিতে সহায়তা প্রদান করে আসছে। নিচের ছকে ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে গ্রীন ফাইনান্সিং এ বিনিয়োগের পরিমান এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর project এর সংখ্যা ও ঝুঁকিমুক্ত করার নিমিত্তে বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ দেখানো হল।

FYGreen Finance

(Fig in Crore)

Environment Risk Rated Project & Disbursed Amount
NumberAmount (Fig in Crore)
2017-1831,328.0036,0732,19,919.00
2016-1717,88.0033,0451,06,609.00
2015-1636,002.0041,4621,66,473.00
2014-1546,589.0039,6131,50,006.00
অর্থনৈতিক সমীক্ষা-১৫, ১৬,১৭, ১৮

Green Banking বা পরিবেশ বান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে ব্যাংকসমূহ তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যেমন- অনলাইন ব্যাংকিং ও যোগাযোগ, কাগজের অপচয় রোধে উভয় পৃষ্ঠায় ছাপানো, নোটপ্যাড হিসাবে স্ক্র্যাপ পেপারের ব্যবহার, ডিজপোজেবল কাপ/গ্লাসের ব্যবহার পরিত্যাগ করা, সিএফএল বাতির ব্যবহার, সোলার প্যানেলের ব্যবহার ইত্যাদি। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের সুবিধাদির মধ্যে কাগজের ব্যবহার কমানো, সময় বাঁচানো, ডাক খরচ কমানো উল্লেখযোগ্য যা পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে পেপারলেস ব্যাংকিংয়ের শুভ সূচনা করে পরিবেশের উন্নয়নে ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

ব্যাংকগুলো এমন স্থানে অফিস স্থাপন করছে যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো বাতাস চলাচল করে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়।

অনবায়নযোগ্য শক্তি ও দ্রব্যসমূহের ব্যবহার কমানো (যেমন- বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, কাগজ ইত্যাদি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ও দ্রব্যসমূহের ব্যবহার বৃদ্ধি করা (যেমন- সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস, যোগাযোগের জন্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ইত্যাদি)।

সৌর শক্তি বায়ােগ্যাস প্লান্ট এ্যাম্বুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এর মতাে পরিবেশবান্ধব পণ্য/খাতের অর্থায়নের পথ সুগম করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল হতে ২০০৯ সালে পরিবেশবান্ধব পণ্য/খাতের জন্য ২০০ কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন স্কিম তৈরি করে। বর্তমানে এটি পরিবেশবান্ধব পণ্য/উদ্যোগ এর জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম নামে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে স্কিমের আওতায় কারখানার কর্ম পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্যে ১১.০৩ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করা হয়েছে। ইট ভাটার চুল্লীর দক্ষতা উন্নয়ন করে কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং জ্বালানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক ‘Financing Brick Kiln Efficiency Improvement Project’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। এর আওতায় চলতি অর্থবছরে ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৯টি উপ-প্রকল্পে ১৩৮.৭৬ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।

পরিশেষে, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিবেশবান্ধব ব্যাংক ব্যবস্থা যে কতটা জরুরি তা এখন সবাই উপলব্ধি করেছে এবং এ বিষয়ে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অনলাইন এবং পেপারলেস ব্যাংকিং এর সবার আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে। তাই পরিবেশগতভাবে পৃথিবীর অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ব্যাংক ব্যবস্থা চালুর কোন বিকল্প নেই।

Green Banking ছাড়া আরও যা পড়বেন:

bcs written syllabus সাথে bank: কী পড়ব, কোথা থেকে কতটুকু

bangladesh bank assistant director: স্বল্প সময়ে প্রস্তুতি

Focus Writing for Bank: Financial Inclusion

Arts Faculty-র প্রশ্নের আদলে করা ব্যাংক Model Questions

international general knowledge for bank preli: 175টি

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: ফোকাস রাইটিং ফর ব্যাংক

general knowledge bangladesh for bank: ৮২টি

সন্ধির চৌদ্দ-গুষ্ঠী: এর বাইরে আর নেই(210টি মাত্র)

Translation Practice

ধ্বনি ও বর্ণ: গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং সংক্ষেপে যা পড়তে হবে

Arts Faculty-র প্রশ্ন ও ডিজিটাল হৈম-অপু

পারিভাষিক শব্দ(২৫৬টি): কমন পড়বেই

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ: বিসিএস ও ব্যাংক

এক কথায় প্রকাশ: ৪৭৬টি (এর বাইরে আর কিছু নেই)

প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ ও বাক্যশুদ্ধি: ২৫০টি

সোনালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার-২০১৮ এর সম্পূর্ণ সমাধান

sonali bank senior-officer question : ২৮১টি(বাছাইকৃত)

চর্যাপদ (charyapada): যেভাবে পড়া উচিত

bank job circular: total preparation

আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুনঃ
Updated: May 14, 2019 — 2:36 pm

3 Comments

Add a Comment
  1. Model test questions কি আর দিবেন না দাদা?

  2. দাদা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন ও এর কার্যক্রমের ওপর একটা ফোকাস রাইটিং দিলে উপকার হত।

  3. Green finance 2016-17 er amount ta ki right?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *