অগস্ত্যযাত্রা: উৎস ও সারমর্ম

প্রবাদ-প্রবচন: অগস্ত্যযাত্রা

উৎস

বেদ ও পুরাণে উল্লিখিত স্বনামখ্যাত মন্ত্রদ্রষ্টা মুনি অগস্ত্য। ঋকবেদে আছে যে, তিনি মিত্র (তেজোময় সূর্য) ও বরুণের (পশ্চিম দিকের দিপাল ও জলের দেবতা) পুত্র। ঋগ্বেদ মতে (বৃহদেবতা) সূর্যের উপাসনা-সূচক আদিত্যযজ্ঞে মিত্র ও বরুণ দেবতা স্বর্গের অপ্সরা উর্বশীকে দেখে বিমোহিত হয়ে পড়েন। তাদের কামস্পৃহা এত বেশি হয় যে, বাসতী নামক যজ্ঞকলসে তাদের বীর্যপাত ঘটে। সেই বীর্য থেকে মুহূর্তের মধ্যে অগস্ত্য ও বশিষ্ঠ নামে দুই মহাঋষির জন্ম হয়।

অগস্ত্য ছিলেন বিন্ধ্যপর্বতের গুরু। বিন্ধ্য হল মধ্যভারতে পূর্বপশ্চিমে বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণী। গঙ্গার অববাহিকাভূমি বা সংক্ষেপে আর্যাবর্ত থেকে দাক্ষিণাত্যকে এই পর্বতমালা পৃথক করেছে। পুরাণমতে দেবতারা (আসলে অভিজাত সম্প্রদায়) বসবাস করতেন এই পর্বতের নানা স্থানে। দূর অতীতে তাপ্তি ও নর্মদার মধ্যবর্তী সাতপুরার সুরম্য ও সুদৃশ্য পার্বত্যভূমিই বিন্ধ্যপর্বত নামে পরিচিত ছিল। দেবীভাগবত থেকে জানা যায় যে, বিন্ধ্যপর্বত সকল পর্বতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মাননীয়। দেব, দানব, গন্ধর্ব (স্বর্গীয় গায়ক, এরা ছিল স্বর্গের সম্মানিত উপদেবতা), কিন্নর এখানকার নদ-নদীতে আনন্দে জলবিহার করত।

দ্বন্দ্ব বাধাতে দক্ষ দেবর্ষি নারদ একদিন বিন্ধ্যের কাছে এসে বললেন, তুমি যতই শ্রেষ্ঠ বা মাননীয় হও না কেন, ওদিকে সুমেরুকে স্বয়ং সূর্যদেব সমস্ত গ্রহ-নক্ষত্রসহ প্রদক্ষিণ করেন।

নারদের মুখে এই কথা শুনে বিন্ধ্য ক্ষিপ্ত হয়ে তার চূড়াগুলি উঁচু করতে আরম্ভ করে। ফলে সূর্যের গতি রোধ হতে থাকে বিন্ধ্যের পশ্চিম ও দক্ষিণে অন্ধকার এবং পূর্ব ও উত্তরে প্রখর সূর্যতাপ দেখা দেয়। হাহাকার পড়ে যায় সর্বত্র। দেবতারা ভয় ও ভাবনায় অস্থির।

সূর্যের পথ বন্ধ হওয়ায় দেবপুরীতে শুরু হল নানা রকম গোলযোগ । চিত্রগুপ্ত সময়-নির্ণয় করতে পারছেন না। হোম, যজ্ঞ শ্রদ্ধতর্পণ ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান বিলুপ্ত হতে থাকল। পশ্চিম ও দক্ষিণদিকে সবসময় রাত্রি থাকায় দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হল। আবার পূর্ব ও উত্তরদিকের অধিবাসীরা প্রচণ্ড সূর্যতাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। দেবরাজ ইন্দ্র পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে প্রচণ্ড ব্যস্ত হয়ে পড়লেন অন্য সব রাজকর্ম ফেলে। দেবতারা মহাদেবের দ্বারস্থ হলেন সাহায্যের জন্য। মহাদেবের পরামর্শে আবার তারা চললেন পালনকর্তা বিষ্ণুর কাছে। বিষ্ণু তাদের পরামর্শ দিলেন অগস্ত্যের কাছে যেতে। দেবতারা তার কৃপাভিক্ষা করায় তিনি যাত্রা করলেন শিষ্য বিন্ধ্যের উদ্দেশে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি স্ত্রীসহ সেখানে উপস্থিত হলেন।

গুরুদেবকে দেখে বিন্ধ্য নত হয়ে প্রণাম করলেন। বিন্ধ্যকে নত দেখে খুশি হলেন অগস্ত্য। তিনি শিষ্যকে বললেন যে, তিনি দাক্ষিণাত্যে যাচ্ছেন। যতদিন তিনি ফিরে না আসেন ততদিন যেন বিন্ধ্য এরূপ নত হয়েই থাকে। কারণ উঁচু পাহাড় ডিঙ্গানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। অতঃপর অগস্ত্য দক্ষিণদিকে অগ্রসর হলেন এবং মলয়পর্বতে আশ্রম স্থাপন করে সেখানে রয়ে গেলেন।

অগস্ত্যমুনিও আর ফিরে আসেননি, গুরু-আজ্ঞা শিরোধার্য করে বিন্ধ্যপর্বতও আর মাথা উঁচু করেনি।

সার সংক্ষেপ:

সকল পর্বতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মাননীয় বিন্ধ্যপর্বতের গুরু হচ্ছে মন্ত্রদ্রষ্টা মুনি অগস্ত্য। দ্বন্দ্ব বাধাতে দক্ষ দেবর্ষি নারদের কাছে সুমেরুর প্রশংসা শুনে বিন্ধ্য ক্ষিপ্ত হয়ে তার চূড়াগুলি উঁচু করতে আরম্ভ করে। ফলে সূর্যের গতি রোধ হতে থাকে বিন্ধ্যের পশ্চিম ও দক্ষিণে অন্ধকার এবং পূর্ব ও উত্তরে প্রখর সূর্যতাপ দেখা দেয়। এই অবস্থা থেকে মুক্তিলাভের জন্য বিষ্ণু পরামর্শে দেবতারা অগস্ত্যের কাছে যান। দেবতারা কৃপাভিক্ষা করায় তিনি স্ত্রীসহ শিষ্য বিন্ধ্যের সম্মূখে উপস্থিত হলেন। গুরুদেবকে দেখে বিন্ধ্য নত হয়ে প্রণাম করলেন। তিনি শিষ্যকে বললেন যে, তিনি দাক্ষিণাত্যে যাচ্ছেন। যতদিন তিনি ফিরে না আসেন ততদিন যেন বিন্ধ্য এরূপ নত হয়েই থাকে। অগস্ত্যমুনিও আর ফিরে আসেননি, গুরু-আজ্ঞা শিরোধার্য করে বিন্ধ্যপর্বতও আর মাথা উঁচু করেনি।

সূচিপত্র

পূর্ববর্তী প্রবাদ-প্রবচন(উৎস ও সারমর্ম): অকাল কুষ্মাণ্ড

পরবর্তী প্রবাদ-প্রবচন(উৎস ও সারমর্ম): অতি দর্পে হত লঙ্কা

সার সংক্ষেপ:

সকল পর্বতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মাননীয় বিন্ধ্যপর্বতের গুরু হচ্ছে মন্ত্রদ্রষ্টা মুনি অগস্ত্য। দ্বন্দ্ব বাধাতে দক্ষ দেবর্ষি নারদের কাছে সুমেরুর প্রশংসা শুনে বিন্ধ্য ক্ষিপ্ত হয়ে তার চূড়াগুলি উঁচু করতে আরম্ভ করে। ফলে সূর্যের গতি রোধ হতে থাকে বিন্ধ্যের পশ্চিম ও দক্ষিণে অন্ধকার এবং পূর্ব ও উত্তরে প্রখর সূর্যতাপ দেখা দেয়। এই অবস্থা থেকে মুক্তিলাভের জন্য বিষ্ণু পরামর্শে দেবতারা অগস্ত্যের কাছে যান। দেবতারা কৃপাভিক্ষা করায় তিনি স্ত্রীসহ শিষ্য বিন্ধ্যের সম্মূখে উপস্থিত হলেন। গুরুদেবকে দেখে বিন্ধ্য নত হয়ে প্রণাম করলেন। তিনি শিষ্যকে বললেন যে, তিনি দাক্ষিণাত্যে যাচ্ছেন। যতদিন তিনি ফিরে না আসেন ততদিন যেন বিন্ধ্য এরূপ নত হয়েই থাকে। অগস্ত্যমুনিও আর ফিরে আসেননি, গুরু-আজ্ঞা শিরোধার্য করে বিন্ধ্যপর্বতও আর মাথা উঁচু করেনি।

সূচিপত্র

পূর্ববর্তী প্রবাদ-প্রবচন(উৎস ও সারমর্ম): অকাল কুষ্মাণ্ড

পরবর্তী প্রবাদ-প্রবচন(উৎস ও সারমর্ম): অতি দর্পে হত লঙ্কা

আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুনঃ
Updated: May 13, 2019 — 12:51 pm

1 Comment

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *