উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ: বিসিএস ও ব্যাংক

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ: বিসিএস ও ব্যাংক একসাথে

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ বিসিএস ও ব্যাংক এর প্রিলি পরীক্ষায় আসবেই। তাই উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ এর উপর দখল থাকাটা আবশ্যক। যেহেতু উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ মুখস্ত করা ছাড়া কোন গতি নেই তাই হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই কমপক্ষে একবার পড়ে ফেলা উচিত।

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ: মনে রাখি কিভাবে

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ অনেকে অনেকভাবে মনে রাখে। কেউ ছন্দ বানিয়ে মনে রাখে, কেউ ঝাড়া মুখস্ত করে। কেউ বারবার পড়ে আর লিখে। আমার কাছে উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগসহ যেকোন কিছু, যা আমাকে মনে রাখতে হবে, তা আমি ঝাড়া মুখস্ত করার পক্ষপাতী।

উল্লেখ্য যে, সনাতন দা‘র আড্ডার এরকম আরও এবং কার্যকরী পোস্ট আপডেট পেতে ডেস্কটপ ইউজাররা বুকমার্ক এবং মোবাইল ইউজাররা সনাতন দা‘র আড্ডা অ্যাপসটি ইন্সটল করে notification subscribe করে রাখুন। আড্ডার নতুন পোস্ট আপনাকেই খুজে নিবে। পোস্টগুলো এমনভাবে সাজানো হবে যাতে আপনার বিসিএস ও ব্যাংকের প্রিপারেশন একসাথে হয়ে যায়।

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ: আলোচনার পূর্বকথা

ভাষা সম্পর্কিত টপিকটি নেয়া হয়েছে ৯ম-১০ম শ্রেণির ব্যাকরণ বই থেকে। তবে বোঝার সুবিধার্থে কিছু চেঞ্জ আনা হয়েছে। উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগটি নেয়া হয়েছে হায়াৎ মামুদ এর বই থেকে। তবে সাজানো হয়েছে আমার নিজস্ব আঙ্গিকে।

ভাষা

মানুষ তার মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করার জন্য কণ্ঠধ্বনি এবং হাত, পা, চোখ ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে ইঙ্গিত করে থাকে। কণ্ঠধ্বনির সাহায্যে মানুষ যত বেশি পরিমাণ মনোভাব প্রকাশ করতে পারে, ইঙ্গিতের সাহায্যে ততটা পারে না। আর কণ্ঠধ্বনির সহায়তায় মানুষ মনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ভাবও প্রকাশ করতে সমর্থ হয়। কণ্ঠধ্বনি বলতে মুখগহ্বর, কণ্ঠ, নাক ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত বোধগম্য ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টিকে বোঝায়।

এই ধ্বনিই ভাষার মূল উপাদান।

এই ধ্বনির সাহায্যে ভাষার সৃষ্টি হয়। আবার ধ্বনির সৃষ্টি হয় বাগযন্ত্রের দ্বারা

গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক ইত্যাদি বা প্রত্যঙ্গকে এক কথায় বলে বাগযন্ত্র

এই বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে

মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত বাক্ সংকেতের সংগঠনকে ভাষা বলা হয়। অর্থাৎ বাগযন্ত্রের দ্বারা সৃষ্ট অর্থবোধক ধ্বনির সংকেতের সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমই হল ভাষা।

বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থান করে মানুষ আপন মনোভাব প্রকাশের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বস্তু ও ভাবের জন্য বিভিন্ন ধ্বনির সাহায্যে শব্দের সৃষ্টি করেছে। সেসব শব্দ মূলত নির্দিষ্ট পরিবেশে মানুষের বস্তু ও ভাবের প্রতীক (Symbol) মাত্র। এ জন্যই আমরা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষার ব্যবহার দেখতে পাই।

বর্তমানে পৃথিবীতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি ভাষা প্রচলিত আছে। তার মধ্যে বাংলা একটি ভাষা।

ভাষাভাষী জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহৎ মাতৃভাষা।

বাংলাদেশের ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণ এবং ত্রিপুরা, বিহার, উড়িষ্যা ও আসামের কয়েকটি অঞ্চলের মানুষের ভাষা বাংলা। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ত্রিশ কোটি লোকের মুখের ভাষা বাংলা

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ: বাংলা ভাষারীতি

কথ্য, চলিত ও সাধু রীতি

বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের জনগণ নিজ নিজ অঞ্চলের ভাষায় কথা বলে। এগুলাে আঞ্চলিক কথ্য ভাষা বা উপভাষা। পৃথিবীর সব ভাষায়ই উপভাষা আছে। এ ধরনের আঞ্চলিক ভাষাকে বলার ও লেখার ভাষা হিসেবে সর্বজনীন স্বীকৃতি দেওয়া সুবিধাজনক নয়। সে কারণে, দেশের শিক্ষিত ও পণ্ডিতসমাজ একটি আদর্শ ভাষা ব্যবহার করেন। বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার কথ্য রীতি সমন্বয়ে শিষ্টজনের ব্যবহৃত এই ভাষাই আদর্শ চলিত ভাষা।

বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার মৌখিক বা কথ্য এবং লৈখিক বা লেখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায়।

ভাষার মৌখিক রূপের আবার রয়েছে একাধিক রীতি :

ক. চলিত কথ্য রীতি

খ. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও রয়েছে দুটি রীতি :

ক. চলিত রীতি

খ. সাধু রীতি।

বাংলা ভাষার এ প্রকারভেদ বা রীতিভেদ এভাবে দেখানো যায়-

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ: বাংলা ভাষার শব্দ ভাণ্ডার

বাংলা ভাষা গোড়াপত্তনের যুগে স্বল্প সংখ্যক শব্দ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও নানা ভাষার সংস্পর্শে এসে এর শব্দসম্ভার বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে তুর্কি আগমন ও মুসলিম শাসন পত্তনের সুযোগে প্রচুর ফারসি শব্দ বাংলা ভাষার নিজস্ব সম্পদে পরিণত হয়েছে। ইংরেজ শাসনামলেও তাদের নিজস্ব সাহিত্য এবং সংস্কৃতির বহু শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ লাভ করে। বাংলা ভাষা ঐ সব ভাষার শব্দগুলোকে আপন করে নিয়েছে। এভাবে বাংলা ভাষায় যে শব্দসম্ভারে সমাবেশ ঘটেছে প্রচুর শব্দের। শব্দের শ্রেণিবিভাগটা(হায়াৎ মামুদ) একটু দেখুন-

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

অর্থানুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ

ক. যোগরূঢ়:

অনেক সাধিত শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একাধিক জিনিসকে বােঝাতে পারে, কিন্তু শব্দটির প্রচলিত অর্থ যদি তারমধ্যে কেবল একটিকেই বােঝায়, তবে তাকে বলে যােগরূঢ় শব্দ। অথবা, সমাসনিম্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনাে বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যােগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন : পঙ্কজ- পঙ্কে জন্মে। যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি নানাবিধ উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে। কিন্তু ‘পঙ্কজ’ শব্দটি একমাত্র ‘পদ্মফুল’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ’ একটি যােগরূঢ় শব্দ। এরকম- রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, সরােজ ইত্যাদি বাংলা শব্দ এবং বর্তমানে এগুলাে বাংলা ভাষার মূল উপাদান হিসাবে বিবেচ্য।

খ. রূঢ় বা রূঢ়ি:

যে-সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থের সঙ্গে প্রচলিত অর্থের পার্থক্য থাকে তাকে রূঢ় শব্দ। | বলে। অথবা, যেসব শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যােগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনাে বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন : হস্তী = হ + ইন্, অর্থ হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বােঝায়। এরকম গবেষণা, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি ইত্যাদি।

গ. যৌগিক:

যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোনাে পার্থক্য নেই, অর্থাৎ একই রকম, সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন : বাংলা ‘মিতালি’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ। “মিতার ভাব, বন্ধুত্ব’ (মিতা’ শব্দের পর ‘ভাব’-অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আলি’-যােগে। ‘মিতালি’ হয়েছে); শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ মিতালি’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই; ফলে ‘মিতালি’ বাংলাতে যৌগিক শব্দ। এরকম| গায়ক = গৈ + অক= অর্থ হল গান করে যে ইত্যাদি।

গঠন অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ

ক. সাধিত:

একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা ধাতু ও শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যােগ হয়ে যে-শব্দ তৈরি হয় তা-ই সাধিত শব্দ। মৌলিক শব্দের আগে বা পরে শব্দাংশ যােগ করে সাধিত শব্দ গঠিত হয়। যেমন : ডুবুরি (ডু + উরি), চাঁদমুখ (চাঁদের মতাে মুখ) ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ প্রকৃতি ও প্রত্যয়যােগে গঠিত হতে পারে, আবার সমাসের সাহায্যেও গঠিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বিবেচনা করে সাধিত শব্দকে দু ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন :

১. প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দ : যেসব শব্দ ভেঙে দুটি অংশ পাওয়া যায় একটি অংশ ধাতু বা নাম শব্দ এবং অপর অংশটি প্রত্যয় তাকে প্রত্যয় নিম্পন্ন শব্দ বলে। যেমন : ঢাকা + আই = ঢাকাই, পড় + উয়া = পড়ুয়া ইত্যাদি।

২. সমাসবদ্ধ শব্দ : সমাসের সাহায্যে যেসব শব্দ গঠিত হয় সেগুলােকে সমাসবদ্ধ শব্দ বলে। এধরনের শব্দ বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে একাধিক মৌলিক বা সাধিত শব্দ পাওয়া যায়। অর্থাৎ দুই বা তার বেশি মৌলিক বা সাধিত শব্দযােগে এসব শব্দ গঠিত হয়। যেমন : সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন– এখানে ‘সিংহ, এবং ‘আসন’ এই শব্দ দুটো একত্র মিলে সিংহাসন শব্দটি গঠিত হয়েছে। এভাবে গায়েহলুদ, দম্পতি চাদমুখ ইত্যাদি হল সমাসবদ্ধ শব্দ।

খ. মৌলিক:

ভাষার যে-সব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যাদের সঙ্গে কোন প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ ইত্যাদি যুক্ত থাকে না, তাদের মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দের বৈশিষ্ট্য হল – স্পষ্ট অর্থবােধকতা ও অবিভাজ্যতা। কখনাে মৌলিক শব্দ ভেঙে দেখানাের চেষ্টা করলে ভাঙা বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না। যেমন : মা, ভাত , পথ, চল্ ইত্যাদি।

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ

১. বিদেশি শব্দ :

রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সংস্কৃতিগত ও বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে আগত বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বহু শব্দ বাংলায় এসে স্থান করে নিয়েছে। এসব শব্দকে বলা হয় বিদেশি শব্দ। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবি, ফারসি এবং ইংরেজি শব্দই বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। এছাড়া পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি এসব ভাষারও কিছু শব্দ একইভাবে বাংলা ভাষায় এসে গেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত, মায়ানমার (বার্মা), মালয়, চীন, জাপান প্রভৃতি দেশেরও কিছু শব্দ আমাদের ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।

ক. আরবি শব্দ : বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলােকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়

(১) ধর্মসাত শব্দ(২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ
আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গােসল, জান্নাত, | জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মােক্তার, রায় ইত্যাদি।

আরবি থেকে আগত শব্দ :

‘কবুল’, ‘কলম’, ‘জৌলুস’, ‘তুফান’, ‘মরসিয়া’ শব্দগুলাে এসেছে আরবি থেকে! বাংলায় এদের উচ্চারণ বদলে গেছে। বাংলা অক্ষরে শব্দগুলাের মূল আরবি রূপ দেখানাে একটু কঠিন। কবুল’ এসেছে। আরবি ‘ককূল’ থেকে। “কলম” এসেছে আরবি ‘কলম’ থেকে। জৌলুশ’ এসেছে আরবি ‘জুলুস’ থেকে। তুফা এসেছে আরবি ‘তুফান থেকে। “মরসিয়া’ শব্দটি আরবি, থেকে ফারসি হয়ে বাংলায় এসেছে। আরবিতে শব্দটি নি ‘মরসিয়ঃ, ফারসিতে ও বাংলায় ‘মরসিয়া। কলম’ শব্দটি মূলে ছিল গ্রিক। তখন তার রূপ ছিল ‘কলমােস। আরবিতে হয় “কলম”। “টুফুন’ আসলে চিনা শব্দ। চিনা ‘তাইফাং’ জাপানিতে হয় তাইফুন’; আরবিতে হয় ‘তুফান’, ফারসিতে হয় “তুফান, বাংলায় ‘তুফান।

আরো কিছু আরবি শব্দের উদাহরণ :

অজুহাত, আক্কেল, আজব, আতর, আদব-কায়দা, আদালত, আমল, আমানত, আলবত, আলাদা, আসল, আসামি, ইজ্জত, ইমারত, ইশতেহার, ইশারা, ইসলাম, উকিল, উজির, এজাহার, এলাকা, ওজন, ওয়ারিশ, কবর, কেবলা, কবুল, কামাল, কায়দা, কিস্তি, কুদরত, কেতাব, কৈফিয়ত, খবর, খাজনা, খারাপ, গজল, গরিব, ছবি, জবাব, জমজমাট, জরিপ, জেহাদ, তওরা, তকদির, তলব, তাগিদ, তামাম, তারিখ, তালিকা, দলিল, দাখিল, নগদ, নজর, নবাব, ফর্দ, ফায়দা, ফাকা, বাকি, বাদ, মজবুত, মজলিশ, মানা, মাফ, মামলা, বদল, রায়ত, রিপু, লায়েক, লেপ, লােকসান, শরবত, শহীদ, সিন্দুক, হাজত, হামলা, হারাম, হাল, হুকুম ইত্যাদি।

খ. ফারসি শব্দ : বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দগুলােকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি।

(১) ধর্মসাত শব্দ(২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ(৩) বিবিধ শব্দ
খােদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রােজা ইত্যাদি।কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তারিখ, তােশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।আদমি, আমদানি, জানােয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

 

বাংলা ভাষায় ফারসি শব্দ প্রবেশের কারণ বাংলাদেশে মুসলমান শাসন। তেরাে শতক থেকে আঠারাে শতকের শেষভাগ পর্যন্ত মুসলমানেরা শাসন করে বাংলাদেশ। তাদের ধর্মীয় ভাষা আরবি, রাজভাষা ফারসি এবং ঘরােয়া ভাষা তুর্কি। তাই এ তিন জাতের শব্দ ফারসি পরিচয়ে বাংলা ভাষায় বিদ্যমান। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, প্রায় ২৫০০ ফারসি শব্দ বাংলায় প্রবেশ করেছে। খ্রিস্টীয় ত্রয়ােদশ শতকের প্রথমে তুর্কি বিজয়ের পর থেকে ফারসি শব্দ বাংলায় ব্যবহৃত হতে থাকে। যােলাে শতক থেকে বাড়তে থাকে বাংলা ভাষায় ফারসি শব্দের প্রতাপ। আঠারাে শতকে তা চরমরূপ লাভ করে।

আরো কিছু ফারসি শব্দের উদাহরণ:

আইন, আওয়াজ, আঙুর, আচার, আজাদ, আতশবাজি, আন্দাজ, আফগান, আফসােস, আমেজ, আয়না, আরাম, আশকারা, আশমান, আস্তানা, আস্তে, ইয়ারকি, ইরানি, ওস্তাদ, কম, কামান, কারখানা, কারচুপি, কারবার, কারিগর, কুস্তি, কিনারা, কোমর, খরগােশ, খরিদ, খখ, খানদানি, খাম, খুন, খুশি, খােরাক, খােশ, খােশামােদ, গরম, গর্দান, গােয়েন্দা, গােরস্থান, গােলাপ, চশমা, চাকর, চাদর, চাঁদা, জঙ্গল, জমি, জর্দা, জামা, জায়গা, তরমুজ, তাজা, তির, দরকার, দরখাস্ত, দরজা, দরবার; দরুন, দর্জি, দালান, দোকান, নমুনা, নাম, নালিশ, নাশতা, পছন্দ, পর্দা, পলক, পশম, পাইকারি, পেশা, পােশাক, ফরমান, বনাম, বালিশ, বন্দ, বন্দর, বন্দি, বস্ত, বাগান, বাচ্চা, বাজার, বাদশাহি, বাসিন্দা, মজুর, ময়দা, মােরগ, রসিদ, রােজগার, শাবাশ, শিকার, শিরােনাম, শুমারি, সওদা, বু সবুজ, সরকার, সরাসরি, সেরা, হাঙ্গামা, হাজার ইত্যাদি।

গ. তুর্কি শব্দ :

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, তুর্কি শব্দ চল্লিশটির বেশি হবে না। ‘কুলি’, ‘কোর্মা, ‘খাতুন’, ‘তােপ’, ‘বেগম’, ‘লাশ’ তুর্কি শব্দ। কুলি’ তুর্কিতে ছিল ‘কুলী’, তখন তার অর্থ ছিল ‘ক্রীতদাস’। কোর্ম তুর্কিতে ছিল ‘কওউর্মা। খাতুন’ তুর্কিতে ছিল ‘খতুন। বেগম’ তুর্কিতে ছিল ‘বেগুম’। লাশ’ তুর্কিতে ছিল ‘লাস’।

ঘ. ইংরেজি শব্দ : ইংরেজি শব্দ দুই প্রকারের পাওয়া যায়-

(১) অনেকটা ইংরেজি উচ্চারণে(২) পরিবর্তিত উচ্চারণে
ইউনিভার্সিটি, ইউনিয়ন, কলেজ, টিন, নভেল, নােট, পাউডার, পেন্সিল, ব্যাগ, ফুটবল, মাস্টার, লাইব্রেরি, ফুল ইত্যাদি।আফিম (Opium), অফিস (Office), ইস্কুল (School), বাক্স (Box), হাসপাতাল (Hospital), বােতল (Bottle) ইত্যাদি।

ঙ. ইংরেজি ছাড়া অন্যান্য ইউরােপীয় ভাষার শব্দ

বাংলা ভাষায় একশাে থেকে একশাে দশটির মতাে আছে পর্তুগিজ শব্দ। “আনারস’; ‘পিস্তল, ‘সায়া’, ‘কামরা’, ‘বালতি’, বারান্দা, পেঁপে পর্তুগিজ শব্দ। “আনারস’ পর্তুগিজে ছিল ‘অননস।- “পিস্তল পর্তুগিজে ‘পিতােল’, ‘সায়া” (মেয়েদের পােশাক) পর্তুগিজে ছিল ‘সইঅ’। কামরা’ ছিল ‘কমর। বালতি ছিল “বলুদে। বারান্দা’ পর্তুগিজে ছিল ‘ভেরানডা’। পেঁপে’ পর্তুগিজে ছিল ‘পপইজ।

এরকম আরও অনেক পর্তুগিজ শব্দের উদাহরণ : আচার, আয়া, আলমারি, আলকাতরা, ইস্পাত, কেরানি, গির্জা, গুদাম, চাবি, তােয়ালে, নিলাম, পাউরুটি, পাদ্রি, ফিতা, সাবান, ইত্যাদি।

(১) পর্তুগিজআনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি।
(২) ফরাসিকার্তুজ, কুপন, ডিপাে, রেস্তোরা ইত্যাদি।
(৩) ওলন্দাজ

ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন ইত্যাদি। ইংরেজি থেকে আগত অফিস, আর্ট, এজেন্ট, এনামেল, কফি, কমা, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, ইউনিয়ন, কোম্পানি, ক্যামেরা, ক্লাব, ক্লাস, গেট, গেঞ্জি, চেক, চেয়ার, টিকিট, টিন, টিফিন, টেবিল, টেলিগ্রাফ, ডজন, ডবল, ডাক্তার, ড্রাম, নবেল, নােট, পকেট, পাউডার, পিয়ন, পুলিশ, পেন্সিল, প্যাকেট, ফটো, ফুটবল, ফোন, ব্যাগ, ম্যানেজার, মাস্টার, লাইব্রেরি, সিনেমা, সার্জন, কুল, স্টেশন, শার্ট, হাইকোর্ট ইত্যাদি। 

চ. অন্যান্য ভাষার শব্দ

(১) গুজরাটিখদ্দর, হরতাল ইত্যাদি।
(২) পাঞ্জাবিচাহিদা, শিখ ইত্যাদি।
(৩) তুর্কিচাকর, চাকু, তােপ, দারােগা ইত্যাদি।
(৪) চিনাচা, চিনি ইত্যাদি।
(৫) মায়ানমার (বার্মিজ)ফুঙ্গি, লুঙ্গি ইত্যাদি।
(৬) জাপানিরিক্সা, হারিকিরি ইত্যাদি।

মিশ্র শব্দ : কোনাে কোনাে সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেমন –

শব্দযে যে ভাষা মিলে হয়েছে
রাজাবাদশাতৎসম+ফারসি
হাট-বাজারবাংলা+ফারসি
হেড-মৌলভিইংরেজি+ফারসি
হেড-পণ্ডিতইংরেজি+তৎসম
খ্রিষ্টাব্দইংরেজি+তৎসম
ডাক্তার-খানাইংরেজি+ফারসি
পকেটমারইংরেজি+বাংলা
চৌহদ্দিফারসি+আরবি

 

২. দেশি শব্দ :

বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন : কোল, মুণ্ডা প্রভৃতি) ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত রয়েছে। এসব শব্দকে দেশি শব্দ নামে অভিহিত করা হয়। অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে। যেমন—

দেশি শব্দযে ভাষা থেকে এসেছে
কুড়ি (বিশ)কোলভাষা
পেট (উদর)তামিল ভাষা
চুলা (উনুন)মুণ্ডারী ভাষা

এরুপ-কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, চেঁকি ইত্যাদি আরও বহু দেশি শব্দ বাংলায় ব্যবহৃত হয়।

৩. অর্ধ-তৎসম শব্দ :

বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে বলে অর্ধ-তৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ তৎসম মানে আধা সংস্কৃত

উদাহরণ :

সংস্কৃতঅর্ধ-তৎসম
জ্যোৎস্নাজ্যোছনা
শ্রাদ্ধছেরাদ্দ
গৃহিণীগিন্নী
বৈষ্ণববোষ্টম
কুৎসিতকুচ্ছিত

৪. তৎসম শব্দ :

যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সােজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ। তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ (তৎ (তার)+ সম (সমান)]=তার সমান অর্থাৎ সংস্কৃত।

উদাহরণ : চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।

৫. তদ্ভব শব্দ :

যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ, ‘তৎ’ (তার) থেকে ‘ভব’ (উৎপন্ন)।

যেমন –

সংস্কৃতপ্রাকৃততদ্ভব
হস্তহথহাত
চর্মকারচমআরচামার

এই তদ্ভব শব্দগুলােকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।

অন্যান্য কিছু ভাষার শব্দ যা জানা জরুরী

অস্ট্রেলিয়া -ক্যাঙ্গারু;

ইতালি— ম্যাজেন্টা;

জাপানি – ক্যারাটে, জুডাে, রিকশা, হাসনাহেনা ইত্যাদি।

জার্মানি – ফুরার;

তিব্বত-– লামা;

দক্ষিণ আফ্রিকা– জেব্রা;

পেরু– কুইনাইন;

মালয়– কাকাতুয়া, কিরিচ,

রুশ– বলশেভিক;

সিংহল— বেরিবেরি;

গ্রিক— কেন্দ্র, দাম;

মায়ানমার (বৰ্মা)– ফুঙ্গি, লুঙ্গি,

চিনা—লিচু, সাম্পান ইত্যাদি।

 

উৎস অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগ: অন্যান্য ভারতীয় ভাষা থেকে আগত শব্দ

তামিল -চেট্টি,

মারাঠি-বরগি (বর্গি);

সাঁওতালি -বােঙ্গা, হাঁড়িয়া;

হিন্দি– ইস্তক, ওয়ালা, কাহিনি, খাট্টা, খানা, চামেলি, চালু, চাহিদা, টহল, পানি, ফালতু, তাগড়া ইত্যাদি।

আরবি-ফারসির মিশ্রণ –ওয়াকিবহাল, ওরফে, কেতাদুরস্ত, খয়রাতি, খয়ের খা, খাতা, জমাদার, তাজমহল, তাবেদার, তৈরি, ফেরারি, ফৌজদারি, লেফাফা-দুরস্ত, শরবতি, হারামজাদা ইত্যাদি।

ফারসি-আরবির মিশ্রণ -আবহাওয়া, আজগুবি, কুচকাওয়াজ, খুন-খারাপ, খুবসুরত, খােদাতালা, খােশমেজাজ, গরম মশলা, জবরদখল, নাদাবি, দস্তখত, দহরম-মহরম, নিমকহারাম, নেকনজর, পছন্দসই, বজ্জাত ইত্যাদি।

তুর্কি-ফারসির মিশ্রণ : চুগলিখাের, তুরকি, মােগলাই ইত্যাদি।

আরবি-তুর্কির মিশ্রণ : খাজাঞ্চি। আরবি-চিনার মিশ্রণ : কাবাব-চিনি।

 

আরও যা পড়বেন:

bcs written syllabus সাথে bank: কী পড়ব, কোথা থেকে কতটুকু

এক কথায় প্রকাশ: ৪৭৬টি (এর বাইরে আর কিছু নেই)

প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ ও বাক্যশুদ্ধি: ২৫০টি

সোনালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার-২০১৮ এর সম্পূর্ণ সমাধান

sonali bank senior-officer question : ২৮১টি(বাছাইকৃত)

চর্যাপদ (charyapada): যেভাবে পড়া উচিত

bank job circular: total preparation

লাল নীল দীপাবলি: ফাকি দিতে হলে যা পড়বেন-০১

নতুন চাকরি পেলে কি হয়

Translation: BB Officer(General) Written-2018

Sonali Bank Exam Senior Officer (110 টি English প্রশ্ন)

bangladesh bank career Officer(General):Written

আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুনঃ
Updated: October 9, 2019 — 1:00 pm

1 Comment

Add a Comment
  1. বিগত বছরে আসা synonym antonym গুলো কি আপলোড করা হবে কি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *